Advertisement

বাদ পড়েও মিড ডে মিলে ফিরল ডিম, জনমত না রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত বদল শুভেন্দুর? শুরু তরজা

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, পুষ্টিগুণের ব্যাপারটি মুখ্যমন্ত্রী তো জানতেন। প্রোটিনের বড়সড় উৎস ডিম। তাহলে কেন সেই ডিমকেই বাদ দিতে চেয়ে বাচ্চাদের নিরাশ করেছিলেন?'

মিড ডি মিলে ডিম ফেরালেন শুভেন্দু মিড ডি মিলে ডিম ফেরালেন শুভেন্দু
সৌমেন কর্মকার
  • কলকাতা,
  • 30 Jul 2026,
  • अपडेटेड 7:12 PM IST
  • 'ডিম' নিয়ে রাজনীতির সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি বিরোধী দলগুলি
  • তাদের বক্তব্য, 'ক্ষমতায় এসেই সরকার বহুদিনের খাদ্য সংস্কৃতিতে আঘাত হানতে চেয়েছিল। প্রতিবাদের কারণে পারল না।'

ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মিড ডে মিলের 'ডিম'। এবার 'আন্ডা'-কে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে ইসকন নিরামিষ খাবার দেবে, সেই তিনিই বুধবার জানিয়ে দেন, 'ডিম'-এর উপরে আস্থা 'ফিরিয়ে' আনছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে খুশি পড়ুয়ারা। 

এদিকে 'ডিম' নিয়ে রাজনীতির সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি বিরোধী দলগুলি। তাদের বক্তব্য, 'ক্ষমতায় এসেই সরকার বহুদিনের খাদ্য সংস্কৃতিতে আঘাত হানতে চেয়েছিল। প্রতিবাদের কারণে পারল না। এটা গেরুয়া শিবিরের নৈতিক পরাজয়।' আবার অনেকে এও দাবি করছেন, জনমতের প্রভাবের কারণেই সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। 

আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি স্কুলগুলিতে আগামী ১ অগাস্ট থেকে মিড ডে মিলে রান্না করা খাবার দেবে ইসকন। তবে বুধবার 'নিরামিষ'-এর অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেন, 'সপ্তাহে এক বা দু দিন পড়ুয়াদের দেওয়া হবে সেদ্ধ ডিমও। এই ব্যবস্থাটি পরিচালিত হবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে। আলাদা করে সেদ্ধ ডিম বাচ্চাদের বিতরণ করব। ইসকন তাদের সাত্ত্বিকতা বজায় রেখে খাবার সরবরাহ করবে। এভাবে ওড়িশায় খাবার দেওয়া হয়। গোটা ভারতের বহু জায়গায় ইসকন মিড ডে মিল সরবরাহ করে। ইতিমধ্যে বিজেপি শাসিত ২২টা রাজ্যে তারা মিড ডে মিলের খাবার দিচ্ছে। সেটাকে আমরা গ্রহণ করেছি। তার সঙ্গে আমরা সেদ্ধ ডিমও দেব।' 

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, পুষ্টিগুণের ব্যাপারটি মুখ্যমন্ত্রী তো জানতেন। প্রোটিনের বড়সড় উৎস ডিম। তাহলে কেন সেই ডিমকেই বাদ দিতে চেয়ে বাচ্চাদের নিরাশ করেছিলেন? তাহলে কি জল মাপতে চাইছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান? তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, 'সরকারের সব সিদ্ধান্তকেই আম আদমি মেনে নেবে। তারা কোনও প্রতিক্রিয়া বা বিরোধিতার পথে যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা ভুল প্রমাণিত হল।' 

সিপিআইএম, কংগ্রেস বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই ডিম বাদ দেওয়া নিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন। ওই তিন দলেরই দাবি, বিরোধী দলগুলির চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে পদ্ম-শিবির। 

Advertisement

এই বিষয়ে মমতা-পন্থী তৃণমূল শিবিরের নেত্রী তথা রাজ্যসভার দোলা সেন বলেন, 'মমতাদি নিজে ডিম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। সেই ডিম ফিরিয়েই আনা হল। এই সরকার তথা শুভেন্দু অধিকারীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো রাস্তাতেই চলতে হবে। এছাড়া কোনও পথ খোলা নেই। শুভেন্দুর বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে। আরও নানা ক্ষেত্রে হবে। সবে তো শুরু। দেখতে থাকুন।' 

ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছিল সিপিআইএম। ইসকনকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হবে, কেন বাচ্চাদের প্রোটিন থেকে বঞ্চিত করা হবে? এমন একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল লাল পার্টি। সরকারের ডিম ফেরানোর সিদ্ধান্তকে এখন তারা জনমতের জয় বলেই মনে করছেন। SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, 'ডিমের পুষ্টিগুণের কথা সব্বার জানা। যখন শুভেন্দুবাবু বলেছিলেন, ডিম তুলে দেওয়া হচ্ছে তখন তো অন্ধভক্তরা খুব সমর্থন জানিয়েছিলেন। সোয়াবিন ডিমের থেকে ভালো বলে লাফালাফি শুরু করেছিলেন। এখন তাঁদেরই আবার ঢোঁক গিয়ে বলতে হবে সোয়াবিনের থেকে ডিম কেন ভালো! আগেরটাও মাস্টারস্ট্রোক কীভাবে ছিল, এটাও কীভাবে মাস্টারস্ট্রোক, তার বর্ণনা করতে হবে।' 

ডিম দেওয়া হবে মিড ডে মিলে

সৃজনের আরও সংযোজন, 'সরকার বরং মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাত থেকে তুলে নিয়ে নিজের হাতে রাখুক। কমিটি গড়ে বিবেচনা করুক কীভাবে বাচ্চাদের আরও ভালো খাবার দেওয়া যায়। তামিলনাড়ুতে তো চিকেন দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। আমরা চাইব এখানেও তা চালু হোক।' 

কংগ্রেসের তরফে সরকারের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানানো হয়। প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সুমন রায় চৌধুরী বলেন,'সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশ ভারত। মিড ডে মিল দেওয়া তো হচ্ছে বাচ্চাদের স্কুলমুখী করতে। সেখানে ডিম তুলে নিলে চলবে কেন? সরকার  যেন নিশ্চিত করে সব স্কুলে ডিম দেওয়া হয়। এতে আমাদের বাচ্চারা লাভবান হবে।' 


ডিম চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরাও। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বাগতা রায় বলেন, 'ডিম শিশুদের জন্য সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলির মধ্যে একটি। এটি উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশে প্রয়োজনীয় একাধিক ভিটামিন ও খনিজের উৎস। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন A, D, B12, আয়রন, জিঙ্ক এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলি শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, পেশি গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেজন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া যেতে পারে। সরকার যদি সপ্তাহে এক বা দুদিন ডিম দেয়, সেটারও কার্যকরী ভূমিকা থাকবে শরীরে। 

যদিও পশ্চিমবঙ্গের মিড ডে মিলের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুলের চাল নিয়ে দুর্নীতি, নিম্নমানের খাবার দেওয়া, রাঁধুনির সময়ে না আসার মতো ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে। কোনও কোনও স্কুলে তো মিড ডে মিল বন্ধও থেকেছে বহুদিন। এই সরকারের আমলে ইসকন কী করে বা ডিম কীভাবে বিতরণ করা হয়, সেটাই এখন দেখার। 

Read more!
Advertisement
Advertisement