Advertisement

অভিষেকের 'প্রাসাদে' এসকেলেটর, ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ লঙ্ঘনের অভিযোগ, ঠিক কেন 'বেআইনি' দাবি?

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি করেন পুরসভার সদর দফতরের ‘বিশেষ আধিকারিক’ (ভবন)। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানির ভিত্তিতে বিশেষ আধিকারিক চাইলে অননুমোদিত অংশ ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন, আবার জরিমানা ধার্য করে সেই নির্মাণকে বৈধতার অনুমতিও দিতে পারেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবিঅভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 May 2026,
  • अपडेटेड 11:01 AM IST
  • কলকাতা পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ১৭টি সম্পত্তির কথিত অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
  • মঙ্গলবার পুরসভা সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।

কলকাতা পুরসভা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ১৭টি সম্পত্তির কথিত অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। মঙ্গলবার পুরসভা সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।

সোমবার সন্ধেয় জারি হওয়া নোটিসগুলিতে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলির বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভবনে লিফট বা এসকেলেটর থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

পুর আধিকারিকদের বক্তব্য, এই নোটিসের বিরুদ্ধে অভিষেকের আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, কেন ওই অংশগুলি ভেঙে ফেলা উচিত নয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগও তাঁকে দেওয়া হবে।

নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৪০০(১) অনুযায়ী অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত অংশ সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। ১৭টি সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই ধরনের নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এছাড়া, পুরনিগম কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাস-বিল্ট ড্রয়িং’ বা নির্মাণ-পরবর্তী নকশাও জমা দিতে বলেছে। সেই নকশায় ভবনের প্রতিটি অংশের ব্যবহার, কাঠামোগত বিবরণ, লিফট বা এসকেলেটরের মতো পরিকাঠামোর তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি করেন পুরসভার সদর দফতরের ‘বিশেষ আধিকারিক’ (ভবন)। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানির ভিত্তিতে বিশেষ আধিকারিক চাইলে অননুমোদিত অংশ ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন, আবার জরিমানা ধার্য করে সেই নির্মাণকে বৈধতার অনুমতিও দিতে পারেন।

পুরসভার এক বরিষ্ঠ আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৭টি সম্পত্তির মধ্যে ১৪টিই বরো ৯-এর অন্তর্গত। এই বরোর আওতায় রয়েছে আলিপুর, চেতলা এবং কালীঘাট এলাকা। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনও এই বরোর মধ্যেই পড়ে।

এছাড়া দুটি সম্পত্তি বরো ১০-এর অন্তর্গত, যার আওতায় রয়েছে যাদবপুর ও যোধপুর পার্ক। একটি সম্পত্তি রয়েছে বরো ৮ এলাকায়, যেখানে দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট এবং ভবানীপুর অন্তর্ভুক্ত।

Advertisement

এদিকে মঙ্গলবার বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস চেয়ারপার্সনের কাছে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে চিঠি জমা দিয়েছেন। যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নোটিস বিতর্কের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুরসভা সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান থাকলেও পরে সেই নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ বা পরিবর্তন করা হয়েছে। অধিকাংশ সম্পত্তিই আবাসিক ভবন, যা কালীঘাট, গড়িয়াহাট সংলগ্ন এলাকা, পণ্ডিতিয়া-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত। কোনও কোনও সম্পত্তির মালিকানা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা সংস্থার নাম জড়িত রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

উল্লেখ্য, সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটে এক জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিনি সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের অভিষেক-সহ চারজন তৃণমূল নেতার সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement