Advertisement

Debashis Sen: 'আমি এখন মুক্ত,' পোস্ট দেবাশিস সেনের, HIDCO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান কথা বলল bangla.aajtak.in

বঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠতেই একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যে সব আমলারা দিদির খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। যদিও বিজেপির তরফ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে ৪ মে-এর পর নতুন করে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আর এরই মাঝে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন HIDKO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজ্যের প্রাক্তন সিইও দেবাশিস সেন।

দেবাশিস সেনদেবাশিস সেন
মৌমিতা ভট্টাচার্য
  • কলকাতা,
  • 06 May 2026,
  • अपडेटेड 12:09 PM IST
  • এরই মাঝে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন HIDKO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজ্যের প্রাক্তন সিইও দেবাশিস সেন।

বঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠতেই একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যে সব আমলারা দিদির খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। যদিও বিজেপির তরফ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে ৪ মে-এর পর নতুন করে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আর এরই মাঝে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন HIDCO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজ্যের প্রাক্তন সিইও দেবাশিস সেন। কারণ তাঁর করা একটি পোস্ট, যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই পোস্ট সহ নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে খোলামেলা কথা বললেন প্রাক্তন HIDCO চেয়ারম্যান। 

তাঁর প্রশাসনির দক্ষতা নিয়ে কখনই কোনও প্রশ্ন কেউ করতে পারেননি। নিউটাউনকে নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছিলেন দেবাশিস সেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে নিউটাউনের দায়িত্ব ছেড়ে একেবারে নিশ্চিত ছিলেন। শাসক দলের কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে কোনওদিনই দেখা যায়নি। দেবাশিস সেন সর্বদাই তাঁর নিজের দফতর হিডকো এবং NKDA নিয়ে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। কিন্তু অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। তবে রাজ্যে প্রত্যাবর্তন আসতেই মৌনব্রত ভাঙলেন দেবাশিস সেন। 

বুধবার সকালে দেবাশিস সেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন নিয়ে লেখেন, এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়। আর এই পোস্টের পর অনেকেরই প্রশ্ন তাহলে কি এবার দল বদল করতে চলেছেন প্রাক্তন এই আমলা? এ প্রসঙ্গে আজতক বাংলার পক্ষ থেকে দেবাশিস সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হিডকোর প্রাক্তন চেয়্যারম্যান তাঁর চেনা ভঙ্গীতে প্রথমেই বলেন, 'আমি তো কোনওদিনই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। কিছু কিছু ট্রোলার, সাংবাদিকেরা আমার খুবই বিরক্ত করত, হিডকো ছাড়ার পর যদি কখনও সেখানে গেছি। এদের এই ট্রোলের কারণে আমি হিডকো-নিউটাউন যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। এই লোকগুলো তো কারোর অঙ্গুলীলেহনেই লিখতো, কিন্তু এখন সেটা আর নেই। তাই আবার যাব আমি সেখানে।' 

Advertisement

দেবাশিস সেন এটাও স্পষ্ট করেন যে তাঁর পোস্টের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে তিনি এও বলেন, 'পোস্টটি অরাজনৈতিক হলেও তাঁকে কারোর নির্দেশেই ভীষণ বিরক্ত করা হতো। ওখানে যাওয়া যাবে না, ওটা তোমার জায়গা নয়, এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হত, একটা বদ্ধ জায়গার মধ্যে যেন ছিলাম এতদিন। সরাসরি কোনও সরকারের নাম নিচ্ছি না, কিন্তু কারোর অঙ্গুলিলেহনেই এই কাজগুলো হত।' তাই এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখন মুক্ত। দেবাশিস সেনের কমেন্টেও তিনি সরাসরি গত দু’বছরের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “সুপ্রভাত। গত দু বছর যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি দূরে থাকতে। কারণ কিছু অত্যন্ত নীচ ট্রোলারদের উৎপাত। এখন দরজা খুলেছে। ইচ্ছে মতো চলব”।

প্রাক্তন এই আমলার কথাতেই স্পষ্ট যে, গত দুই বছর তিনি এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ তাঁকে ব্যথিত করেছিল। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ার ফলে অনেক সরকারি আধিকারিক বা প্রাক্তন আমলা এখন নিজেদের ওপর থেকে অদৃশ্য কোনও নিয়ন্ত্রণের ছায়া সরে যাওয়ার কথা অনুভব করছেন। দেবাশীষ সেনের পোস্ট সেই অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।       

Read more!
Advertisement
Advertisement