
বকরি ইদের আগে গরু এবং মহিষ জবাইয়ের উপর রাজ্য সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে সেই বিধিনিষেধের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি দাবি করলেন, কুরবানি হবেই।
আজ বৃহস্পতিবার সিদ্দিকুল্লাহ দাবি করেন,সরকার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এমন নির্দেশিকা জারি করেছে। এর বিরোধিতা সর্বস্তরে হচ্ছে। তোষণের রাজনীতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিদ্দিকুল্লা বলেন, 'কুরবানি নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অভিপ্রেত নয়। এই সিদ্ধান্ত সরকারের। তবে আমি সেই বিষয়ের থেকে ধর্মের উপরই বেশি জোর দিতে চাইছি। আমরা কুরবানি করব। কেউ আটকাতে পারবে না। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে তো গরু খাওয়া হল। সেখানে অসুবিধে নেই। এখানে কেন? বাংলার অর্থনীতিও অনেকটা গরুর উপরই নির্ভরশীল।'
সিদ্দিকুল্লার দাবি, বিজেপি সরকার দ্বিচারিতা করছে। তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা বিবেকানন্দের উদাহরণ দেন। কিন্তু সেই সব মহাপুরুষরা তো কখনও কুরবানির বিরোধিতা করেননি। তারপরই তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, 'কুরবানি অবশ্যই হবে। ১০০ শতাংশ হবে। হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ এটা ধর্মের বিষয়।'
প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী কয়েকটি নিয়ম বলবত করা হয়েছে রাজ্যে। সরকারের নির্দেশ, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। ১৪ বছর বয়স হয়নি, এমন গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না। তা ছাড়াও মাংস কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। এই নির্দেশিকা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের সব মাদ্রাসায় 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার যে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার, তার বিরোধিতা করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, কোরান ও হাদিসের নির্দেশ অমান্য করবে না মুসলিম সমাজ। সেই কারণে মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন নির্দেশ জারি করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, 'মুসলমানদের যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে বন্দে মাতরম চালু করা উচিত নয়। কারণ ওগুলি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ যে স্কুল আছে সেখানে গাওয়ানো হোক। তাতে আমার আপত্তি নেই। সরকার এই সিদ্ধান্তটা ঠিক নেয়নি। মাদ্রাসাতে তো কোরান পড়ানো হয়। সেই মোতাবেক শিক্ষা দেওয়া হয়। সরকার তো মাদ্রাসাকে সাহায্যও করে না। তাহলে কেন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?'