Advertisement

Bowbazar Families New Home: বউবাজারের সেই বাসিন্দারা ফ্ল্যাট পাচ্ছেন, মেট্রোর জন্য ৭ বছর ধরে ঘরছাড়া

৭ বছর ধরে ভিটেহীন। চোখের সামনে বাড়ি ধসে পড়েছিল। এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। থাকতে হয়েছিল হোটেলে। বউবাজারের সেই বাসিন্দারা পুজোর আগেই পাচ্ছেন নতুন বাড়ি।

নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে (বাঁ দিকে) পুরনো বাড়িগুলির ধ্বংসস্তূপ (ডান দিকে)নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে (বাঁ দিকে) পুরনো বাড়িগুলির ধ্বংসস্তূপ (ডান দিকে)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 08 Oct 2026,
  • अपडेटेड 3:30 PM IST
  • ৭ বছর ধরে ভিটেহীন
  • চোখের সামনে বাড়ি ধসে পড়েছিল
  • বউবাজারের বাসিন্দারা পুজোর আগেই পাচ্ছেন নতুন বাড়ি

দীর্ঘ ৭ বছর পর ফের নিজেদের মাথার উপর ছাদ পাচ্ছেন বউবাজারের মেট্রো প্রকল্পের জেরে গৃহহীন মানুষরা। দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁকরা পাড়া লেন, মদন দত্ত লেন, হিদারাম ব্যানার্জি স্ট্রিট, রাস্তাগুলির নাম মাথায় এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরনো আমলের বাড়িতে চওড়া ফাটল। মাথায় আসবে আর রাতারাতি এক কাপড়ে ভিটে ছাড়া হওয়া অসংখ্যা মানুষের মুখ। ৭ বছর হোটেল আর প্রশাসনের দেওয়া সাময়িক ঘর ছেড়ে অবশেষে নিজেদের বাড়ি ফিরে পাচ্ছেন সেই গৃহহীনরা। তবে এখন তাঁদের বাড়ি নতুন, আরও পাকাপোক্ত। 

সময়টা ছিল ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস। চলছিল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের শিয়ালদা মেট্রো স্টেশন এবং সেই রুটের লাইনের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার্ক। আচমকাই একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা যায়। ক্রমশ সে ফাটল চওড়া হতে থাকে। প্রশাসনের নির্দেশে ঘর ছাড়তে হয় দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁকরা পাড়া লেন সহ ওই এলাকার একের পর এক পরিবারকে। কেবলমাত্র ফাটলই নয়, আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোর কাজের জেরে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে একাধিক বাড়ি। চোখের সামনে নিজের জন্মভিটে ধসে যেতে দেখেন বাসিন্দারা। চোখের জলে কোনওমতে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে বেরিয়ে আসতে হয় তাঁদের। ঠাঁই হয় হোটেলে। তারপর সেখান থেকে KMRCL-এর দেওয়া ঘরে।  বউবাজারের আদি বাসিন্দাদের কাউকে যেতে হয় বেলেঘাটা তো কাউকে অন্য কোথাও। ভিটে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই তাঁরা কাটিয়েছেন ৭টা বছর। 

এই নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলাও কম হয়নি। মেট্রো টানেলের কাজের জেরে নেমে আসা বিপর্যয়ের কারণে ভিটেহারাদের পুনর্বাসনের দাবি জোরাল হয়েছে। ঘরহারাদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষোভ-বিক্ষোভ, প্রতিবাদ চলেছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আশ্বস্ত করে তাঁদের ওই স্থানেই নতুন বাড়ি করে দেওয়ার কথা জানায়।

এবার দুর্গাপুজোর মুখে হাসি ফুটল সেই পরিবারগুলিতে। একাধিক পরিবার ফিরে পেল তাদের বউবাজারের ভিটে। তবে এবার সেগুলি নতুন। ধসে যাওয়া বাড়ি এলাকাতেই নতুন বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। 

Advertisement

স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে বলেন, 'আজ ৭টি বাড়ি হস্তান্তর করা হচ্ছে বউবাজারের ভিটেহারাদের। প্রথম ফেজে ১৭-১৮ পরিবারের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হবে। রয়েছে ৫-৬টি দোকানও। তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন মেট্রো টানেলের কাজের জেরে। বাড়ি-দোকান সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছিল।' তিনি জানান, মোট ২৭টি বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। কাজ চলছে জোরকদমে। আগামী বছর পুজোর আগে সকল ভিটেহারাই নতুন বাড়ি পেয়ে যাবেন। এখনও প্রায় ২৫টি পরিবার ভিটেহীন অবস্থায় KMRCL-এর দেওয়া বাড়িতে থাকছেন। তাঁদেরও ফেরানো হবে এই বউবাজারেই। 

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। উল্লেখ্য, মেয়র থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিম ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে মেট্রো রেল কর্পোরেশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে ২০২৬ সালের পুজোর আগেই অনেকে নতুন বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন। এখন দেখার বাকিরা কত তাড়াতাড়ি নিজেদের মাথার ছাদ ফিরে পান। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement