
মেয়র পদের মেয়াদ শেষের সাত মাস আগেই ইস্তফা ফিরহাদ ববি হাকিমের। সাংবাদিক সম্মেলনে গত ৮ বছরের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বললেন, 'ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার হয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চাই না।' নিজের বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই তাঁকে পদত্যাগ করতে হল বলে আক্ষেপও করেন। বলেন, নেতাজির স্বপ্ন পূরণ করা হল না।
বলেন, "মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েই পদত্যাগ করেছি।" তাঁর কথায়, "আম্ফান ও কোভিড কালে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব চ্যালেঞ্জিং ছিল।" বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন বলেও দাবি করেন ববি।
'নেতাজির স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রেখে গেলাম....'
পুর নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করা থেকে মানুষের সমস্যা জানতে 'টক টু মেয়র'-ও চালু করেছেন বলে খতিয়ান দেন। শুধু আক্ষেপ রইল, নেতাজির স্বপ্নপূরণ করা হল না তাঁর। কী সেই স্বপ্ন? জানালেন ফিরহাদই। বলেন, "যখন নেতাজি মেয়র ছিলেন তখন ঠনঠনিয়াতে খুব জল জমেছিল। নেতাজি গামবুট পরে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে এখনও জল জমে। আমি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন করেছি অনেকটাই এগিয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলাম। উদ্বোধন করা হয়নি। আশা করি এটি শেষ হবে। নেতাজি চেয়েছিলেন আর ঠনঠনিয়াতে জল জমবে না। আমি আর থাকব না।"
তাঁর আরও বক্তব্য, "যাঁদের ছবিতে নমস্কার করে আমরা বড় হয়েছি, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বোস, ড. বিধানচন্দ্র রায়, তাঁদের নখের যোগ্য হতে পারলে জীবন ধন্য হয়ে যাবে। ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়, কিন্তু যে চেয়ারটাই স্মরণীয় ব্যক্তিদের সম্মান আছে। আমি যখন মেয়র ছিলাম দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে অবমাননা করতে পারি না। এভাবে চেয়ার ধরে বসে থাকতে পারি না। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাতে এই চেয়ারে যাঁরা বসেছেন তাদের প্রতি অসম্মান হবে। তাই ছাড়ছি। আগামীতে যিনি আসবেন তিনি সম্মানের সঙ্গে চালাবেন, আমার থেকেও ভালো চালাবেন এটাই আশা করি। শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ার খালি করছি।"
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মেয়র পদ ছাড়ার অনুমতি নিতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। তিনি জানান, "দলের তরফে অনুমতি চেয়েছিলাম, আমি সসম্মানে যেতে চাই। দিদি বলেন ঠিক আছে।"
তাঁর আরও দাবি, "এই চেয়ারে বসতে পারব কোনওদিন ভাবিনি। সেই দাপটের সঙ্গে চালানোর মর্যাদা রাখতে পারছি না মনে হচ্ছে। কোনও প্রেশার নেই।"
এখন কীকরে চলবে পুরসভা? উত্তরে তিনি বলেন, "আমি এই বিষয়ে বলতে পারব না। আমার যা জানানোর জানিয়েছি।"
এদিন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে মেয়র পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দেন ফিরহাদ।