Advertisement

ঋতব্রতর পাশে ফিরহাদ, একসঙ্গে কুণাল-মদন-শোভনদেব; বিধানসভাতেও TMC-র বিভাজন প্রকাশ্যে?

রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই প্রকাশ্যে সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব। বিজেপি সরকারের অধীনে শুরু হওয়া নতুন বিধানসভার প্রথম দিনেই বিরোধী শিবিরে স্পষ্ট হয়ে গেল দলের ভাঙনের ছবি। বিরোধী বেঞ্চ কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বিধায়করা, অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী শিবির।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 18 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:42 PM IST
  • রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই প্রকাশ্যে সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব।
  • বিজেপি সরকারের অধীনে শুরু হওয়া নতুন বিধানসভার প্রথম দিনেই বিরোধী শিবিরে স্পষ্ট হয়ে গেল দলের ভাঙনের ছবি।

রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই প্রকাশ্যে সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব। বিজেপি সরকারের অধীনে শুরু হওয়া নতুন বিধানসভার প্রথম দিনেই বিরোধী শিবিরে স্পষ্ট হয়ে গেল দলের ভাঙনের ছবি। বিরোধী বেঞ্চ কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বিধায়করা, অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী শিবির।

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ৩৮ জন বিধায়ককে বসতে দেখা যায়। অন্যদিকে ১৪ জন বিধায়ক কিছুটা দূরে, বিরোধী বেঞ্চের আলাদা অংশে আসন গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আসন বিন্যাসই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঋতব্রতপন্থী শিবিরে দেখা গিয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকে। ‘ববি’ নামে পরিচিত এই প্রবীণ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের পাশে বসেন। অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী শিবিরে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, রুকবানুর রহমান এবং আলিফা আহমেদ-সহ একাধিক নেতা।

শুধু বিধানসভা নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। দলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় রয়েছেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে তাঁর স্ত্রী এবং চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার তাঁকে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের সঙ্গেই দেখা যায়।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং সেই মর্মে গত ৯ মে স্পিকারের কাছে চিঠিও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই বিষয়ে স্পিকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির দাবি করে, তাঁদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। সেই দাবি জানিয়েই ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্রের ভিত্তিতে তিনি বিরোধী দলনেতার পদে অধিষ্ঠিত হন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে দলবিরোধী কার্যকলাপ বলে অভিহিত করে এবং ১ জুন ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

Advertisement

ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও একাধিক প্রশ্ন তুললেও কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি। ফলে আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ জুলাই।

এদিকে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, বর্তমানে তাঁদের সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে ৬৫-তে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তাঁরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। যদিও বৃহস্পতিবার অধিবেশনে তাঁদের সব সমর্থক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে এ দিনের দৃশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন আর দলীয় বৈঠকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; তা প্রকাশ্যে বিধানসভার মেঝেতেও পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতির।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement