Advertisement

Food Safety Raid In Restaurants: নামী রেস্তোরাঁগুলিতে পচা মাংস, গা গুলিয়ে ওঠা দৃশ্য কলকাতা সহ জেলায় জেলায়

হাজার হাজার টাকা খরচ করে যে সব রেস্তোরাঁয় শখের খাবার খেতে যাচ্ছেন, সেখানেই মিলল পচা মাংস। নামী একাধিক রেস্তোরাঁর কিচেনে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ ফুড সেফটি আধিকারিকদের। তবে কি ফিরল ভাগাড় কাণ্ড?

রেস্তোরাঁয় ফুড সেফটি রেইডরেস্তোরাঁয় ফুড সেফটি রেইড
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 02 Sep 2026,
  • अपडेटेड 1:38 PM IST
  • নামী একাধিক রেস্তোরাঁর কিচেনে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ
  • কিচেন থেকে মিলল মিলল পচা মাংস
  • তবে কি ফিরল ভাগাড় কাণ্ড?

কোথাও ছত্রাক পড়া চিকেন, কোথাও আবার কিচেনে ঘুরে বেড়াচ্ছে আরশোলা! ফুড সেফটি অফিসারদের একের পর এক হোটেলে রেইড এবং সেখান থেকে অস্বাস্থ্যকর-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পচা মাংসের প্রমাণ উস্কে দিয়েছে ৮ বছর আগের ভাগাড় কাণ্ডের স্মৃতি। খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযান ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রেস্তোরাঁগুলিতে। 

ভাগাড় কাণ্ড
সময়টা ছিল ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস। একটি তদন্তে উঠে এসেছিল গা ঘিনঘিনে তথ্য। জানা গিয়েছিল, মৃত পশুর মাংস কেটে রাখা হত কলকাতা তথা রাজ্যের বেশ কিছু হিমঘরে। পচা মাংস রাখতে ব্যবহার করা হত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, লেড সালফেট, ফরম্যালিনের মতো রাসায়নিক। এরপর ওই ভাগাড়ের মাংস একটি বাক্সে ভের তার উপর ইলিশ বা চিংড়ি মাছ রেখে  পাচার করা হত একাধিক প্রতিবেশী রাজ্যে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁর পাশাপাশি যা যেত বিভিন্ন শপিং মলে ফ্রোজেন মাংস হিসেবে। এই কারবার চলছিল ১০ বছর ধরে। ভাগাড়ের মাংস উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। তারপর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সকলের মনে। 

রেস্তোরাঁয় পর্যবেক্ষণ

ঘটনাস্থল সেই বাদুড়িয়া 
ভাগাড়ের মাংস কাণ্ডে প্রথম নাম উঠে এসেছিল বাদুড়িয়ার। সেখানকার একটি জায়গা থেকেই টন টন পচা মাংস উদ্ধার হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সেখানকার একাধিক রেস্তোরাঁ। তারপর কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভাগাড়ের মাংস পাওয়া গিয়েছিল। এবারও সেই বাদুড়িয়াতেই ঘটল আরও একটি ঘটনা। 

মঙ্গলবার বাদুড়িয়ারই একটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে পচা মাংস পায় খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। দিদিমণি রোডের নামী ওই রেস্তোরাঁ থেকে ৪০ কেজি পচা মাংস পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে মুরগি এবং খাসির মাংস মেশানো ছিল। প্রথমে যদিও রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা জানান, ফেলে দেওয়ার জন্যই ওই মাংস রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাদের বক্তব্য সন্তুষ্ট হতে পারেনি আধিকারিকরা। সঙ্গে সঙ্গে ওই রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বন্ধ করে দেওয়া হবে রেস্তোরাঁটি। 

Advertisement
রেস্তোরাঁর কিচেন

মধ্যমগ্রাম স্টার মল
মধ্যমগ্রামের স্টার মলের একটি নামী রেস্তোরাঁয় ফুড সেফটি অভিযানে যা ধরা পড়ল তা আতঙ্ক তৈরি করেছে মানুষের মনে। ফ্রিজে মিলল ফাঙ্গাস পড়া চিকেন।  সেটাই দেওয়া হচ্ছিল গ্রাহকদের? উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই নামী ওই রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল করেছে খাদ্য দফতর। ফুড সেফটি আধিকারিকরা স্টার মলের ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন বাসি-পচা মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে খাবার, আলুতে মেশানো হয়েছে রং। ফুড সেফটি দফতরের কর্তা প্রসেনজিৎ বটব্যালের নেতৃত্বেই স্টার মলের ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চলে। 

শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, স্টার মলের ফুড কোর্টের একাধিক রেস্তোরাঁতেই অনিয়ম ধরা পড়েছে। ওই মলটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যান, খাবার কিনে খান। ছুটির দিনে প্রত্যেকটি ফুড কোর্টেই ভিড় উপচে পড়ে। কোনও ফুড কোর্টে গিয়ে দেখা গিয়েছে লাইসেন্স ঠিক নেই, কারও আবার খাবার মান ভাল নয় কিংবা কিচেন অপরিষ্কার। 

রেস্তোরাঁয় পর্যবেক্ষণ

এখানেই শেষ নয়, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ল্যাংচা হাবেও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক মিষ্টির দোকান, হোটেল, ধাবা, রেস্তরাঁয় তল্লাশি চলছে গোটা রাজ্য জুড়েই। পূর্ব মেদিনীপুরের রেস্তোরাঁতেও অপরিচ্ছন্ন কিচেনের অভিযোগ উঠেছে। খাবারের গুণগত মান নিয়ে আপত্তি উঠেছে কলকাতার অনেক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁরও। খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ত্রুটি নজরে এসেছে ফুড সেফটি আধিকারিকদের।  

সম্প্রতি মুম্বইয়ে রেস্তোরাঁর মধ্যে ভেজাল পনির থেকে শুরু করে কিচেনে আরশোলা ঘুরে বেড়ানো পচা খাবার রেখে দেওয়ার একাধিক ঘটনা হাতেনাতে পাকড়াও করেছেন ফুড সেফটি কমিশনার তুকারাম মুণ্ডে। তিনি এখন রেস্তোরাঁ মালিকদের কাছে ত্রাসে পরিণত হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যেই এই দুঁদে অফিসারের নেতৃত্বে ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চলেছে। হাতেনাতে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় বাতিল হয়েছে ১৬৫-র বেশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স। ৭৫০-র বেশি আউটলেটকে নোটিশ জারি করা হয়। এবার কলকাতাতেও সেই একই চিত্র দেখা যায় কি না, সেটাই দেখার। তবে কি নামী রেস্তোরাঁয় হাজার হাজার টাকা খরচ করে এইসব খাচ্ছেন গ্রাহক? গা ঘিনঘিনে ছবি দেখে আতঙ্কিত সকলেই। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement