
বিধাননগর পুরনিগমের প্রথম মেয়র ও বর্তমান পুরনিগমের চেয়ারম্যানের উপরে ব্যবসায়ীর থেকে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জানান। বিধাননগর কমিশনারেটে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তোলাবাজি ও হুমকির কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁকে নিয়মিত টাকা দিতে চাপ দিতেন সব্যসাচী। এই অভিযোগের পরেই পুলিশ সক্রিয় হয়। সোমবার গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছিতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানেই গ্রেফতার হন দাপুটে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত।
রাতে গ্রেতার হওয়ার পর আজ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় বিধাননগর পুলিশ। সকালেই কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেতার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করার আগে নিয়ম অনুযায়ী মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আজ সব্যসাচী দত্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। পুলিশের একাধিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাঁকে ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপরই বিধি মেনে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হবে। আদালতে তদন্তকারী সংস্থা তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে এবং প্রয়োজন হলে হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব্যসাচী দত্তের গ্রেততারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। আদালতে পেশের পর এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সব্যসাচী দত্ত।
তোলাবাজির অভিযোগ অবশ্য মানতে রাজি নন সব্যসাচী দত্ত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো অভিযোগটাই ভিত্তিহীন, ২০১৮ সালে ওই ব্যক্তি নিজেই গ্রেফতার হন , এক কোটি কেন একশো কোটির অভিযোগ করতে পারেন, এক টাকা দিয়েছেন প্রমাণ করতে পারলে আমায় ফাঁসিকাঠে তুলে দিন।
সব্যসাচী দত্তের দাবি, পুলিশ প্রতিহিংসা করছে। ২০১৮ সালের একটি পুরনো মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ধৃত নেতা নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। প্রসঙ্গত, সব্যসাচী দত্ত ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। পরে দল বদলে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে বিধাননগরে বিজেপির প্রার্থী হন সব্যসাচী। তবে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর কাছে হেরে গিয়ে সেই বছরই ফের তৃণমূলে ফেরত আসেন। ২০২২ সালে ফের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন। পরে তিনি বিধাননগর পুরবোর্ডের চেয়ারপার্সন পদেও ছিলেন। সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন এলাকায় সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।