
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন শুনেই রেগে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অর্থাত্ বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে মিছিলে ব্যাপক অশান্তি হয়। পুলিশকে লাঠিচার্জ করতেও দেখা যায়। সাংবাদিকদের সামনে যাবতীয় ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন শুনেই চটে গেলেন মমতা
প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের বিষয়ে প্রশ্ন শুনেই মমতা বললেন, 'এই ধরনের প্রশ্ন আমাকে করবেন না। যান, চিফ মিনিস্টারকে গিয়ে জিগ্গেস করুন।' এরপরেই কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর অতিসক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বললেন, 'আমার বাড়ির সামনে পুলিশ নজরদারি করে। কে আসছে,কে যাচ্ছে, নজর রাখে। প্রেসকেও ঢুকতে দেয় না এখন। সবাই জানে তোমরা কীভাবে সরকারে এসেছো, তা হলেও বলছি, ভাল করে সরকার চালাও, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখো, মানুষকে জাস্টিস দাও। আমাকে হাউস অ্যারেস্টের মতো করে রেখেছে। আমাদের হাইকোর্ট অনুমতি গিয়েছিল, হ্যান্ডমাইক নিয়ে মিছিল করার জন্য। কিন্তু ওরা সকাল ৬টা থেকে ডিজে বাজিয়েছে। পুরো এলাকায় তাণ্ডব করেছে।'
মমতার মিছিল শেষ হয় হাজরায়
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আজ দুপুর ২টো থেকে শুরু হয় মমতাপন্থী তৃণমূলের মিছিল ৷ শেষ হয় বিকেল ৪টেয় ৷ দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হয় হাজরায়। এদিকে মমতার মিছিলের কয়েক ঘণ্টা আগেই বারুইপুরে এনকাউন্টারে প্রভাস মণ্ডল নামে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর আসে।
প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের মৃত্যুর ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। বারুইপুরে শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। রবিবার পুকুরে তার দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, যে জলাভূমিতে নাবালিকার দেহ মিলেছিল, সেই জায়গায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রভাসকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ। পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া চলাকালীনই হঠাত্ প্রভাস এক পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একরাউন্ড গুলিও চালায় সে। আত্মরক্ষার্থে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। হাসপাতালে প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা।
প্রভাসের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা বলেন, 'আমি ওকে দেখতে চাই না। আমাকে হাসপাতালে যেতে বলেছিল পুলিশ। আমি বললাম, দেখে আর কী করব? আমার যাওয়ার শক্তি নেই, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মায়ের তো কষ্ট হবেই কিন্তু ও যা কর্ম করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে। ভালই হয়েছে। একদম ওকে দেখতে চাই না। মৃতদেহ আনব না। তোমরা পুড়িয়ে দেবে, ফেলে দেবে, যা পারবে করবে।'