
নির্বাচন মিটতেই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। তাতে নবতম সংযোজন দেবরাজ চক্রবর্তী। বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তী সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামীও। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার গ্রেফতারির খবরে শোরগোল পড়েছে সমাজমাধ্যমেও।
দুর্নীতির অভিযোগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন এই তৃণমূল নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে খবর। পুলিশ অবশ্য আটক বা গ্রেফতার নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানায়নি। জানা যাচ্ছে, গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীর কোনও খোঁজ মিলছিল না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায়, আইনি জট এড়াতে তিনি সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকেই দেবরাজের গ্রেফতারির খবর ঘিরে শুরু হয় তুমুল চর্চা। বিজেপির একাধিক নেতার পোস্ট ঘিরেই এই জল্পনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। গত পুরভোটের পরে বিধাননগরের সম্ভাব্য মেয়র বা চেয়ারম্যান হিসেবে দেবরাজের নামও উঠে এসেছিল।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তোলাবাজি এবং দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাজমাধ্যমে ‘পাপ বিদায়’ মন্তব্য করে পোস্ট করেন। এরপরই সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্নচিহ্ন-সহ দেবরাজের নাম উল্লেখ করে পোস্ট করেন।
তৃণমূলের অন্দরে দেবরাজ চক্রবর্তী স্রেফ একজন কাউন্সিলর ছিলেন না, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও যুব তৃণমূলের রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কামারহাটি থেকে বিধাননগর—পুরো চত্বরের যুব সংগঠনের রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন। তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে আগেই এসেছিলেন দেবরাজ। সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবং নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর পুর এলাকার একাধিক নিয়োগ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ডসিয়ার তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেফতারি এড়াতে গত কয়েকদিন ধরে নিজের সমস্ত মোবাইল ফোন বন্ধ করে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও তাঁর কোনও হদিশ মিলছিল না। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর ডেরায় হানা দেয়। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।