Advertisement

Health News: কলকাতায় মিরাকল সার্জারি! ৮ বছরের মেয়েকে লিভার দান করে বাঁচালেন বাবা

অত্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল মেয়েটি। বিরল এই জিনগত রোগে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে আনুমানিক একজন আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, অসহ্য চুলকানি, বমি, খিদে কমে যাওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল মেয়েটি। প্রায় দেড় বছর ধরে মেয়ের অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন বাবা-মা। বারবার হাসপাতালে আসা-যাওয়া লেগেছিল।

স্বাস্থ্যের খবর (ছবি: পিক্সেলস ও পিক্সাবে)স্বাস্থ্যের খবর (ছবি: পিক্সেলস ও পিক্সাবে)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Nov 2026,
  • अपडेटेड 1:12 PM IST
  • অত্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল মেয়েটি
  • বিরল এই জিনগত রোগে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে আনুমানিক একজন আক্রান্ত হন
  • দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, অসহ্য চুলকানি, বমি, খিদে কমে যাওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল মেয়েটি

বাবার কাছে মেয়েই সব। তার থেকে দামি আর কিছু নয়। আর সেটাই আবার প্রমাণ করলেন এক পুলিশকর্মী। বিরল জিনগত লিভারের রোগে আক্রান্ত ৮ বছরের মেয়েকে নতুন জীবন দিতে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করলেন তিনি। বাইপাসের ধারের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হল এই লিভার প্রতিস্থাপন। বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ছোট্ট মেয়েটি। তাঁর বাবাও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল মেয়েটি। বিরল এই জিনগত রোগে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে আনুমানিক একজন আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, অসহ্য চুলকানি, বমি, খিদে কমে যাওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল মেয়েটি। প্রায় দেড় বছর ধরে মেয়ের অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন বাবা-মা। বারবার হাসপাতালে আসা-যাওয়া লেগেছিল। এমনকী পেটে জমে থাকা জলও বের করা হয়। কিন্তু কিছুতেই ছোট্ট মেয়েটির অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যাচ্ছিল না।

অবশেষে শিশুটিকে এই নামী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার পর জানা যায়, সে প্রোগ্রেসিভ ফ্যামিলিয়াল ইনট্রাহেপাটিক কোলেস্টেসিস টাইপ ৩ (PFIC 3) নামে বিরল জিনগত লিভারের রোগে আক্রান্ত। এই রোগে লিভারের ভিতরে পিত্ত জমে যায়। ধীরে ধীরে তা লিভারের ক্ষতি করে। আর ঠিক সময় চিকিৎসা না হলে লিভার বিকল হয়ে যায়। 

হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় শিশুটির বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে হয়েছিল ২০ mg/dl। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। চিকিৎসকদের মতে, PFIC 3 রোগে আক্রান্ত কোনও শিশুর লিভার বিকল হয়ে গেলে লিভার প্রতিস্থাপনই একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা।

মেয়েকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দান বাবার
চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, লিভারের একটি অংশ প্রতিস্থাপন করেই মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব। এই কথা জানার পর এক মুহূর্তও ভাবেননি তার বাবা। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি লিভার দানের জন্য উপযুক্ত। এরপর নিজের লিভারের বাঁদিকের অংশ, যার ওজন ৪১০ গ্রাম, মেয়েকে দান করেন ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশকর্মী।

Advertisement

শিশুটির লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার চলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে। এই জটিল অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ট্রান্সপ্লান্ট সার্জেন, হেপাটোলজিস্ট, শিশু চিকিৎসক, ইনটেনসিভিস্ট এবং ট্রান্সপ্লান্ট অ্যানাস্থেটিস্টদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল।

চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিশুটির শারীরিক অবস্থা। লিভার বিকল হওয়ার পাশাপাশি তার পেটে জল জমেছিল। সেই সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রেও সমস্যা ছিল। শিশুদের রক্তনালী এবং পিত্তনালী অত্যন্ত ছোট হয়। তাই অস্ত্রোপচারের সময় প্রতিটি পদক্ষেপের সময় বিশেষ সতর্কতা ও নিখুঁত দক্ষতার প্রয়োজন ছিল।

হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন ও হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারির বিশেষজ্ঞ ডা: রাহুল রায় বলেন, 'শিশুদের ক্ষেত্রে যে রক্তনালী এবং পিত্তনালীগুলিকে জোড়া লাগাতে হয়, সেগুলি অত্যন্ত ছোট। প্রতিটি সেলাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করতে হয়। সামান্য ভুলেরও কোনও সুযোগ থাকে না।'

হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট অ্যানাস্থেশিওলজির কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা: অনুপম পুরকায়স্থ বলেন, 'গুরুতর অসুস্থ একটি শিশুকে জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে নিরাপদে সুস্থ করে তোলার পাশাপাশি তাঁর বাবার, অর্থাৎ যিনি লিভার দান করছেন, তাঁর স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে হয়েছে। গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সকলে মিলে প্ল্যান করা হয়েছিল।'

অস্ত্রোপচারের পর ১৮ দিনেই হাসপাতাল থেকে ছুটি
অস্ত্রোপচারের মাত্র একদিনের মধ্যেই ভেন্টিলেটরের সাহায্য ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করে শিশুটি। এরপর লিভার আইসিইউতে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে সে। নতুন লিভার যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধও শুরু করা হয়।

অস্ত্রোপচারের ১৮ দিনের মাথায় স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় তাকে।

অন্যদিকে মেয়ের বাবা মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। বর্তমানে তিনি সুস্থ। পুলিশকর্মী হিসেবে নিজের স্বাভাবিক কাজে ফিরেছেন তিনি। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, তাঁর শরীরেরই একটি অংশ এখন মেয়েকে নতুন জীবন দিয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement