Advertisement

লাল সতর্কতা জারি, তেড়ে বৃষ্টি জেলায় জেলায়; কোথায় কোথায় অতি ভারী বর্ষণ?

১৬ ও ১৭ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই প্রবল বর্ষণ, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কলকাতায় তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস কলকাতায় তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 14 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:46 PM IST
  • কৃষকদেরও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর
  • মাঠে যাতে জল না দাঁড়ায়, তার জন্য যথাযথ নিকাশি ব্যবস্থার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে

উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তার জেরে আগামী কয়েক দিনে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। একই সঙ্গে ওড়িশায় ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের জন্য জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। 

আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ১৪ ও ১৫ জুলাই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ ও ১৭ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই প্রবল বর্ষণ, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর এবং আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি। ১৪ ও ১৫ জুলাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নদী ও খাল-বিলের জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিহারে ১৪ ও ১৫ জুলাই অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপর ২০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। ঝাড়খণ্ডেও আগামী কয়েক দিন ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকবে মৌসুমি বায়ু। অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরায় ২০ জুলাই পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমতল এলাকায় বর্ষার দাপট কিছুটা কম থাকবে। তবে ১৭ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে আপাতত আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গরমের পাশাপাশি অস্বস্তিকর আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।

দক্ষিণ এবং পশ্চিম-মধ্য ভারতের অধিকাংশ এলাকায় আগামী ৬ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৭ জুলাই থেকে কোকণ-গোয়া এবং উপকূলীয় কর্নাটকে আবারও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এদিকে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকাল এবং রায়লসীমার কিছু অংশে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বা তাপপ্রবাহ-সদৃশ পরিস্থিতির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকা এলাকাগুলিতে জল জমা, শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে আইএমডি। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদেরও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মাঠে যাতে জল না দাঁড়ায়, তার জন্য যথাযথ নিকাশি ব্যবস্থার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির সময় সার প্রয়োগ, বীজ বপন বা অন্যান্য কৃষিকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের জন্যও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। ১৪ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে আরব সাগরের একাধিক অংশ এবং ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে প্রবল হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই সময় সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়া দফতরের বক্তব্য, বর্ষাকালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই জেলা-ভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সরকারি সতর্কবার্তার উপর নিয়মিত নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমডি।

কোন জেলায় কেমন বৃষ্টি হবে? 

১৫ জুলাই (মঙ্গলবার) উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। 

১৬ জুলাই (বুধবার) দক্ষিণবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেখানে পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও কলকাতায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে হাওড়া এবং হুগলিও। 
উপরের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়া হাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০–৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা। 
 
১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। 

১৮ জুলাই (শুক্রবার) সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০–৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। এদিকে দার্জিলিং,কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও 
আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হবে। 


১৯ জুলাই (শনিবার) দক্ষিণবঙ্গে সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। ২০ জুলাইও আবহাওয়ার একই পূর্বাভাস রয়েছে। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement