
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। উত্তরবঙ্গের অবস্থাও প্রায় একই। জুলাই মাসেও কি এভাবেই বৃষ্টি হবে? তার পূর্বাভাস জারি হল। মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত থেকে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। আবার ২৯ জুন ও ১ জুলাই ভারী বৃষ্টি হতে পার। সেখানে উত্তরের জেলাগুলিতে ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকেই দক্ষিণবঙ্গও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী থাকবে। ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সবথেকে বেশি অর্থাৎ অতিভারী বৃষ্টি হবে ১ জুলাই ও ৪ জুলাইয়ের মধ্য়ে। সেখানে ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি হতে পারে কলকাতাতেই।
মৌসম ভবন আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি সেভাবে না থাকলেও অন্য রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হবে। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো-র প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ায়, ভারতের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত মাসিক পূর্বাভাসে IMD জানিয়েছে, জুলাই ২০২৬-এ দেশের মোট বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯৪ শতাংশেরও কম হতে পারে, অর্থাৎ স্বাভাবিকের নিচে থাকবে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাত ২৮০.৪ মিলিমিটার।
এই পূর্বাভাস এমন সময় এসেছে, যখন ভারত গত এক শতাব্দীর অন্যতম শুষ্ক জুন মাস পার করেছে। ২০২৬ সালের জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯০১ সালের পর পঞ্চম শুষ্কতম জুন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
IMD-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশ, পূর্ব-মধ্য ভারত এবং পূর্ব উপদ্বীপীয় অঞ্চলে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতেও দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
জুলাইয়ে কম বৃষ্টির এই পূর্বাভাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এল নিনো-কে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা। এল নিনোর ফলে স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যায়, যার কারণে মৌসুমি বায়ুর শক্তি দুর্বল হয় এবং মেঘ ও বৃষ্টিপাত কমে যায়। যদিও প্রতিটি এল নিনো বছরে খরা হয় না, তবে অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর সঙ্গে দুর্বল মৌসুম এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।
তবে জুলাইয়ের পূর্বাভাস হতাশাজনক হলেও IMD আশা করছে, বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়া এবং মৌসুমি অক্ষরেখা দক্ষিণমুখী হওয়ার ফলে আগামী কয়েক দিনে মধ্য ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতর (BOM) জানিয়েছে, মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে ইতিবাচক ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD) তৈরি হতে পারে, যা মৌসুমি বায়ুকে কিছুটা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা, এল নিনোর প্রভাব যদি মরসুমের বাকি সময়ও বাড়তে থাকে, তাহলে এই নিম্নচাপ বা অন্যান্য আবহাওয়া ব্যবস্থা কেবল সাময়িক স্বস্তিই দিতে পারবে।
কারণ, জুলাই মাসেই ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের বড় একটি অংশ হয়। তাই এই মাসের বৃষ্টির পরিমাণ কৃষি, জলাধারের জলসংগ্রহ, পানীয় জলের প্রাপ্যতা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।