
ইলিশ-প্রেমীদের জন্য সুখবর। দিঘার মোহনায় উঠল ৩০ টন ইলিশ। তার জেরে দাম কমছে রুপোলি শস্যের। তার আগে গত ৫ থেকে ৭ দিনে এই ইলিশ ওঠার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ টন। এত ইলিশ ওঠায় খুশি মৎস্যজীবী ও আড়তদাররা। তাঁদের দাবি, এবার থেকে বাজারে নিয়মিত ইলিশ পাবেন গ্রাহকরা।
এত ইলিশ ওঠায় দামও অনেকটা কম। দিঘা মোহনায় ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায়। আরও বড় সাইজের ইলিশের দাম একটু বেশি।
এক মৎস্যজীবীর দাবি, দিঘা ছাড়াও কাঁথি, রামনগর, বালিসাই-সহ বিভিন্ন মাছের বাজারে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে রবিবার পর্যন্ত শুধু ইলিশ মিলেছে ২৩০ টন। আর তা পূর্ব মেদিনীপুরের বাজারগুলি সহ কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে রফতানি করা হচ্ছে। ফলে কলকাতা ও তার আশপাশের বাজারেও দ্রুত মিলবে সেই মাছ।
তিনি আরও জানান, এত কম সময়ে এত পরিমাণ মাছ ওঠার ঘটনা এই বছর প্রথম। দাম বেশিদিন থাকায় এতদিন আম-আদমি মনের সুখে ওই মাছ খেতে পারেননি। তবে জোগান বৃদ্ধির ফলে চাহিদাও বাড়বে। এতে দামও কমবে।
কলকাতা ও তার আশপাশের বাজারে কত টাকায় বিক্রি হবে ইলিশ?
শনিবার পর্যন্ত মানিকতলা ও পাতিপুকুর বাজারে ইলিশ সবচেয়ে সস্তায় বিক্রি হয়েছে। এক কেজির দাম ছিল হাজার থেকে ১১০০ টাকা। ১.২-১.৩ কেজির মাছের দাম উঠছে ১,৫০০–১,৬০০ টাকা আর ৭০০–৯০০ গ্রামের মাছ প্রায় ৯০০–১,০০০ টাকা।
তবে আগামী ২ দিনের মধ্যে সেই দাম কমে যাবে অনেকখানি। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অনুমান,শিয়ালদা, পাতিপুকুর, বালিগঞ্জ, শ্যামবাজারে এক কেজি বা তার থেকে সামন্য বড় মাছের দাম ১০০০ টাকা কেজি দরে মিলতে পারে। তার থেকে ছোটো মাছের দাম হতে পারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি বড় মাছের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টকা হতে পারে।
তবে তুলনামূলকভাবে একটু বেশিই দাম হতে পারে নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট, যদুবাবুর বাজারে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ওঠায় দিঘা মোহনা থেকে জেলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ইলিশ সরবরাহের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ইলিশের জোগান আরও বাড়লে বাজারদর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এক মৎস্যজীবী জানান, কয়েক দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ইলিশ ধরায় বাধা পড়েছিল। তবে জালে মাছ ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যত বেশি মাছ উঠবে ততই দাম কমবে।