
ঘোড়ার গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক ১৮ বছরের ভারতীয় পর্যটকের। সেই ঘটনার জেরে এবার নিউ ইয়র্কে বন্ধ হতে চলেছে ঘোড়ায় টানা গাড়ি। ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটিতে এই ধরনের রাইড নিষিদ্ধ করার পক্ষে সমর্থন জোরদার হল। শহরের সিটি কাউন্সিল ২০২৮ সালের জুন থেকে এই ধরনের রাইড নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার কাউন্সিল ৪০-৭ ভোটে বিলটির পক্ষে ভোট দেয়। দুজন সদস্য ভোট দেননি। শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত এই আইনটি শহরের রাস্তা এবং সেন্ট্রাল পার্কে পরিচালিত একটি দীর্ঘদিনের পর্যটন আকর্ষণ ও ঐতিহাসিক শিল্পের অবসান ঘটাবে।
কবে ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছিল?
চলতি বছরেরই ১৭ জুন রোমাঞ্চ মহাজন নামে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। চালক মহাজনের পরিবারের ছবি তোলার জন্য সরে দাঁড়ালে, ঘোড়াটি আচমকা লাফিয়ে উঠে দৌড়তে শুরু করে। গাড়ির মধ্যে থাকা রোমাঞ্চ গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ঘোড়ার গাড়ি নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘোড়ার গাড়ি নিউ ইয়র্ক শহরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়। ট্রাম্পের বক্তব্য, দুর্ঘটনা তো রাস্তায় চলা গাড়িতেও ঘটে, গাড়ি যখন তবুও চলছে, তাহলে ঘোড়ার গাড়ি কেন নিষিদ্ধ করা হবে?
কলকাতাও একই রাস্তায় হাঁটছে!
শুধু যে নিউইয়র্ক একটি ঘোড়া গাড়ির দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নয়। আদতে একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে কলকাতাও। এ শহরের বুকে আজও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়া, ময়দান সংলগ্ন এলাকায় ছোটে ঘোড়ায় টানা গাড়ি। মূলত পর্যটকদের বিনোদনের উদ্দেশেই এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, রাজ্য সরকার এই গাড়ি নিষিদ্ধ করতে পারে।
সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, লকাতার ঘোড়ায় টানা পর্যটক গাড়িগুলিকে ইলেকট্রিক অপশন দিয়ে বদলে ফেলার পরিকল্পনার কথা। এটিকে একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যের মন্ত্রীর এ কথায় স্পষ্ট, কলকাতা শহর থেকেও সরে যেতে পারে ঘোড়ায় টানা গাড়ি। যদিও এক্ষেত্রে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা ডেডলাইন জানায়নি রাজ্য।