
বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হাওড়া ব্রিজ। হাজারও ইতিহাসের সাক্ষী শতাব্দী প্রাচীন এই সেতু। এবার কলকাতার আইকনিক এই ব্রিজকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। শতাব্দী প্রাচীন হাওড়া ব্রিজের গা বেয়ে এবার রামধনু আলোয় ফুটে উঠবে আপনার ভালবাসার বার্তা। প্রিয়জনের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোকে অনন্য করে তুলতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
হাওড়া ব্রিজে আলোর খেলা
জানা যাচ্ছে, রবীন্দ্র সেতুতে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন ডায়নামিক আর্কিটেকচারাল লাইটিং। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তৈরি এই ব্যবস্থায় বসানো হচ্ছে ৩,৮২৫টি লুমিনেয়ার। আলোকসজ্জার মোট ইনস্টলড ক্ষমতা ৩৮৫ কিলোওয়াট। স্থির আলোয় শুধু সেতুকে দৃশ্যমান করার বদলে আলোর পরিবর্তন এবং শব্দের সমন্বয়ে তৈরি হবে ডায়নামিক লাইট শো। এই আলোর খেলা অবশ্য প্রতিদিন একই রকম থাকবে না। স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, গান্ধী জয়ন্তী, দুর্গাপুজো, দীপাবলি, হোলি-সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জা দেখানো হবে। ফলে উৎসবের সঙ্গে বদলাবে হাওড়া ব্রিজের রাতের চেহারাও।
প্রিয়জনকেও শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন
এবার হাওড়া ব্রিজে প্রিয়জনকেও শুভেচ্ছা জানানো যাবে। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সহ জীবনের নানা বিশেষ দিনগুলিকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। হাওড়া ব্রিজে চালু হতে চলা ডায়নমিক আর্কিটেকচারাল ইলুমিনেশন ব্যবস্থায় এই নতুন আলোকসজ্জার মাধ্যমে বিশেষ দিন ও উৎসব অনুযায়ী বদলে যাবে সেতুর আলোর থিম এবং রং। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা বা নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যারের ডিজিটাল স্ক্রিনে যেভাবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের নাম ভেসে ওঠে, ঠিক সেভাবেই এবার কলকাতাবাসীও হাওড়া ব্রিজের আলোয় প্রিয়জনকে সারপ্রাইজ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। শুধু উৎসবেই নয়, এই আলোকসজ্জার মাধ্যমে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ফলে কেউ চাইলে প্রিয়জনকে সারপ্রাইজ দিতে হাওড়া ব্রিজকে ব্যবহার করতে পারবেন। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা অন্য কোনও বিশেষ দিনে আলোর মাধ্যমে সেতুতেই ফুটে উঠতে পারে শুভেচ্ছাবার্তা। কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ককে ঘিরে এমন উদ্যোগ শহরের পর্যটন আকর্ষণও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খরচ কত হচ্ছে?
প্রকল্পটির জন্য খরচ হচ্ছে ২২.৩৫ কোটি টাকা। এম এম ব্রাদার্স নামক একটি সংস্থা এটি বাস্তবায়িত করেছে। আলো সংক্রান্ত সহযোগিতায় রয়েছে হ্যাভেলস লাইটিং। কারিগরি পরামর্শদাতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শহরের মানুষ শুধু সেতুর সামনে দাঁড়িয়েই এই দৃশ্য দেখবেন না, মোবাইলেও যাতে শো দেখা যায় তারও ব্যবস্থা থাকছে। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডায়নামিক লাইট শো এবং সিঙ্ক্রোনাইজড সাউন্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অর্থাৎ শহরের অন্য প্রান্তে থাকা মানুষ কিংবা কলকাতায় আসা পর্যটকরাও মোবাইলের পর্দায় দেখতে পারবেন এই আলোর অনুষ্ঠান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, 'রবীন্দ্র সেতুর আলোকসজ্জা শুধু একটি সেতুকে আলোয় সাজানো নয়, এর সঙ্গে কলকাতার ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। হাওড়া ব্রিজ এই শহর ও দেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত।' নতুন আলোকসজ্জায় হাওড়া ব্রিজের কাঠামো, মূল পাইলন, উপরের অংশকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। এই ব্যবস্থায় মোট ৩,৮২৫টি লুমিনেয়ার বসানো হয়েছে। আলোকসজ্জা ব্যবস্থার মোট ক্ষমতা ৩৮৫ কিলোওয়াট।
কীভাবে শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঐতিহাসিক হাওড়া ব্রিজে ডায়নামিক আর্কিটেকচারাল ইলুমিনেশন ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। অভিনব এই আলোকসজ্জার মাধ্যমে বিশেষ দিন ও উৎসবের সময় সেতুর আলোর থিম ও রং বদলে যাবে। পাশাপাশি এই অত্যাধুনিক আলোকসজ্জার মাধ্যমে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগও রাখা হচ্ছে। কেউ চাইলে জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা অন্যান্য কোনও বিশেষ দিনে সেতুর আলোয় ভালোবাসার মানুষকে সারপ্রাইজ দিতে পারবেন। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যার, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা বা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মতো ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ডমার্কে বহুদিন ধরেই ব্যক্তিগত শুভেচ্ছাবার্তা জানানোর ব্যবস্থা চালু আছে। এবার সেই তালিকায় জুড়তে চলেছে বাংলার গর্বের হাওড়া ব্রিজও। বিষয়টি কলকাতা সহ সমগ্র বাংলার মানুষের কাছে এক অভিনব অভিজ্ঞতা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও এই নিয়ে কোনও অফিশিয়াল ঘোষণা হয়নি। ফলে বুকিংয়ের পদ্ধতি, বুকিং করতে কত খরচ বা কতদিন আগে থেকে বুকিং করতে হবে, সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।