
আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবারের যোগ দিবসে কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে বিরাট আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে কয়েক হাজার মানুষ যোগাসন করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব দেখবে প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার শক্তি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যপালের বাসভবন লোকভবনে রাত্রিবাস করেছেন মোদী। সেখান থেকেই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন রেড রোডে। রেড রোডে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আরএন রবি ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট রেড রোডে যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতায় যোগ দিবসের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলেছে। শুক্রবার কলকাতা পুরসভা আয়োজিত ‘দৌড় সে ধ্যান’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও। কলকাতার মোট ১১টি স্থান থেকে দুই কিলোমিটার দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছিল। শনিবার রাতের হিসাব পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২ লক্ষ ৩৯ হাজার সাধারণ মানুষ যোগ দিবসের কর্মসূচির জন্য নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন বলে খবর।
রবিবার নৌসেনায় তিনটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভরতার বার্তা দিলেন। মোদী বলেন, ভারত দ্রুত আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে। দেশ প্রতিরক্ষাখাতে ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না। ভারতীয় সেনা অন্য কোনও দেশের অস্ত্র বিক্রির বাজার হবে না বলেও জানান নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উদ্বোধনের পর নমো বলেন, দেশের সবচেয়ে উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সংশোধক পেল নৌসেনা।
রবিবার যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধন- এই তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করবেন মোদী।
১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিমি আহমেদাবাদে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন। কপালভাতি করলেন অমিত শাহ।
যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার হাওড়ার এলআরএস স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে এক বর্ণাঢ্য যোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক লক্ষ্মীরতন শুক্লার নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ জন মানুষ ও শিশু যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণ করেন।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ভুবনেশ্বরে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি যোগাভ্যাস করেন।
আগামী বছর থেকে রাজ্য সরকার পাঠ্যপুস্তকে যোগ করবে বলে ঘোষণা করলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা করলেন তিনি। পটনার পাটলিপুত্র স্পোর্টস কমপ্লেক্সে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধন করে একথা জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
রেড রোডে যোগাভ্যাস অনুষ্ঠানের মাঝে অংশগ্রহণকারীদের সাহায্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কারা ঠিক করছেন, কারা ভুল করছেন ঘুরে ঘুরে দেখেন। ভুল হলে শুধরে দেন।
১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগাভ্যাস করছেন। দেখুন ভিডিও।
রেড রোডে ৩৫ হাজার মানুষের সঙ্গে যোগভ্যাস করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
PM নরেন্দ্র মোদী যোগ দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বলেন, "১০০ দিনের অনলাইন যোগা কর্যক্রমের আয়োজন করা হয়। দেশ বিদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ এতে যোগ দেন। যখন মানুষ সুস্থ থাকবে রাষ্ট্রও আত্মবিশ্বাসী হবে।"
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। ১৩০টি দেশের ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যখন সমাজ স্বাস্থ্যবান হবে, রাষ্ট্রও ততই সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী হবে। আমি সকলের জন্য কামনা করছি, সবাই সুখে থাকুন ও সব রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যোগা জীবনকে ভারসাম্যের সঙ্গে জীবনযাপন করা শেখায়। কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় তা শেখায়। যোগা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও পথ দেখায়। তাই যোগা শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দুনিয়ার সকলের জন্য আবশ্যক।"
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ২১ জুনের এই দিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় উত্সবের দিন হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যোগাভ্যাসের ছবি আসছে। কলকাতাকে স্বচ্ছ বানাতে যেভাবে কলকাতায় কাজ চলছে, তা গোটা দেশের কাছে প্রেরণা। আজ যোগ দিবসে বাংলায় থাকা আমার কাছে বিশেষ। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতেই রামকৃষ্ণ পরমহংসের আবির্ভাব, এখান থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ গোটা বিশ্বকে যোগাসনের গুরুত্ব বুঝিয়ে ছিলেন, ঋষি অরবিন্দের এই ভূমিতে আজ আমার উপস্থিতি, একটি আধ্যাত্মিক অনুভূতি দিচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতেন, মানুষের পরিচিতি আলাদা থাকা নয়, গোটা বিশ্বের সঙ্গে জুড়ে থাকা। এই জুড়ে থাকা যোগাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। যোগ গোটা বিশ্বকে একসঙ্গে জোড়ে।
'স্বচ্ছতা সে স্বাগত'। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেভাবে আমায় কলকাতার মানুষ আমায় স্বাগত জানিয়েছেন, তা নাগরিকদের মধ্যে উদাহরণ তৈরি করেছেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের জন্মদিনে যোগ দিবস পালন করার সুযোগ আমায় আত্মিক অনুভূতি দিচ্ছে। এই বাংলায় জন্ম নেওয়া গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন, একলা থাকা নয় সকলের সঙ্গে একজোট হয়ে থাকা আনন্দ দেয়। যোগাসনও সেটাই শেখায়। ঋষি অরবিন্দও শিখিয়েছিলেন, জীবনই যোগ।'
১২তম যোগ দিবসে PM মোদী বলেন, "যোগ দিবসে পুরো দেশ, পুরো বিশ্ব একই মালায় গেঁথে গিয়েছে। এটাই মানুষের শক্তি। যোগা সকলকে একত্রিত করে। আমি পুরো বিশ্বকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভ কামনা জানাচ্ছি। আজ যোগ দিবসে পুরো বাংলা স্বচ্ছতার সঙ্গে যোগ দিবস পালনকে বাহবা দেব। 'স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাগত' জানানোর জন্য পরিশ্রম করেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। এটি সমগ্র দেশবাসীর জন্য় প্রেরণা হয়ে দাঁড়াল।"
যোগ সবাইকে জুড়ে দেয়। যোগ সবাইকে সঙ্গে রাখে। সারা ভারত ও বিশ্বকে যোগ দিবসের শুভেচ্ছা। বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কলকাতার রেড রোড থেকে বিশ্ববাসীকে যোগ দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, "যোগ-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একে অপরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। এটাই যোগের আসল শক্তি।"
গোটা বিশ্বকে সম্পূর্ণ মানবজাতিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, '২১ জুনের এই দিন পৃথিবীর একটি গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন। তবে বর্তমানে এটি যোগ দিবস উদযাপনের জন্য সবচেয়ে বড় উদযাপনের দিনও হয়ে উঠেছে। গোটা দেশ যোগ দিবসে চৈতন্যে ভরপুর, তা নজরে পড়ছে। এটাই যোগাসনের শক্তি। যোগ সকলকে একসঙ্গে আনে, একজোট করে।'
যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য ২ লক্ষ ৫৭ হাজার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় যোগকে ফিরিয়ে আনার জন্য PM-কে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু।