Advertisement

ইনশাল্লাহ বলায় কি ট্রান্সফার IPS Bushra Bano, পুরো সত্যিটা জানুন

আইপিএস অফিসার বুশরা বানোর ভিডিও ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে চিঠি। তার কয়েক দিন পরেই বদলির নির্দেশ।

বুশরা বানোর পুরো ঘটনা জানুনবুশরা বানোর পুরো ঘটনা জানুন
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 16 Sep 2026,
  • अपडेटेड 4:10 PM IST
  • বুশরা বানোর ভিডিও নিয়ে বিতর্ক।
  • কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বদলি।

পরনে খাকি পোশাক। আইপিএস অফিসার। তাঁর মুখে'আসসালামু আলাইকুম', 'ইনশাল্লাহ' এবং 'জাজাকাল্লাহ'-র মতো শব্দ। ভাইরাল ভিডিও। তারপরই বদলি। সত্যিই কি 'ইনশাল্লাহ' বলায় খড়্গপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বুশরা বানোকে? প্রশাসনিক পদে থেকে কি 'ইনশাল্লাহ' বলা যায়? সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি কি লঙ্ঘন করেছেন? আইন কী বলছে? পুরো কাহিনি জানুন।  

খড়্গপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন বুশরা বানো। তাঁকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হয়েছেন পার্থ ঘোষ। এই হল আসল খবর। এবার আসা যাক, এর নেপথ্যের কাহিনি সম্পর্কে। দিন কয়েক আগে বুশরা বানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয় নেটমাধ্যমে। ওই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, পুলিশের পোশাকেই 'আসসালামু আলাইকুম', 'ইনশাল্লাহ' এবং 'জাজাকাল্লাহ'-র মতো শব্দ উচ্চারণ। ভিডিওটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সেটি নেটমাধ্যমে শেয়ার করে হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড নামে একটি সংগঠন দাবি করে, এ বিষয়ে বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে সোমবার বুশরা বানোর বদলির নির্দেশ। ফলে অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করছেন। 

ভিডিওটা কি সত্যি?

২০২১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক বুশরা ১৩ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে নিজের প্রস্তুতির সময়কার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমি তাঁকে সাহায্য করেছিল। যদিও সেই ভিডিওটি বর্তমানে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রসচিবকে অভিযোগ

ভিডিওয় পুলিশের পোশাকেই দেখা গিয়েছে বুশরাকে। তাঁর বক্তব্যে 'আসসালামু আলাইকুম', 'ইনশাল্লাহ' এবং 'জাজাকাল্লাহ'-র মতো শব্দ ব্যবহারের পরই আপত্তি ওঠে।  হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড নামে একটি এক্সে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করে, সরকারি আধিকারিক হিসাবে বুশরার 'জয় হিন্দ' বা 'বন্দে মাতরম'-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা উচিত ছিল।

Advertisement

ওই সংগঠন আরও দাবি করে, বিষয়টি নিয়ে বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী কোনও আধিকারিকের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। প্রকাশ্য কথোপকথনে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার অনুচিত।

বদলির নির্দেশ জারি

সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে বিতর্কের কয়েক দিন পর সোমবার বুশরার বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। খড়্গপুরে তাঁর জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ করা হয়েছে পার্থ ঘোষকে। ঘটনা হল, ১৪ সেপ্টেম্বর মোট তিন জনকে বদলি করা হয়। শুভেন্দু মণ্ডলকে সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদ থেকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার করা হয়েছে। অর্থাৎ বুশরা বানোর জায়গায় গিয়েছেন পার্থ ঘোষ এবং পার্থ ঘোষের জায়গায় গিয়েছেন শুভেন্দু মণ্ডল।

রাজ্য সরকার কী বলছে?

বুশরার বদলির সঙ্গে ভিডিও বিতর্কের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সোজা কথা, সরকারিভাবে এটাকে রুটিন বদলিই বলা হচ্ছে।  

ধর্ম নিয়ে সার্ভিস রুল কী বলছে?

IPS আধিকারিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস কনডাক্ট রুলস, ১৯৬৮। এই নিয়ম অনুযায়ী, আধিকারিকদের সততা, কর্তব্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পদের উপযুক্ত আচরণ বজায় রাখতে হয়। সরকারি কাজে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সকলের সঙ্গে সমান আচরণ করাও জরুরি। নিয়মের ৩ নম্বর ধারায় ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আচরণের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। কোনও আধিকারিক ব্যক্তিগত জীবনে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন, এমনকি তার প্রচারও করতে পারেন। কিন্তু সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় এমন আচরণ করা উচিত নয়, যাতে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতের বার্তা যায়। তবে এই নিয়মে জয় হিন্দ বা বন্দে মাতরমকে ধর্মীয় অভিবাদনের পরিবর্তে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, এমন কোনও কথা নেই।

কে এই বুশরা বানো?

উত্তরপ্রদেশের কনৌজ জেলায় জন্ম বুশরা বানোর। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করেন। জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য নেটও পাশ করেছিলেন। পরে সৌদি আরবে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। সেই সময়েই তাঁর বিয়ে এবং সন্তানও হয়। সন্তানদের দায়িত্ব সামলে কীভাবে UPSC-র প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তা নিয়েও আগে কথা বলেছেন। ২০১৮ সালে UPSC পরীক্ষায় ২৭৭ র‌্যাঙ্ক করেন বুশরা। তবে দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে রেলের চাকরিতে যোগ দেননি। ২০১৯ সালে ফের UPSC পরীক্ষায় বসে ২৩৪ র‌্যাঙ্ক করেন। IPS হিসাবে নির্বাচিত হন।

নিয়ম কি সবার জন্য সমান?

বুশরা বানোর বদলির নির্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া মৈত্র, নওশাদ সিদ্দিকীরা। সরকারি বক্তব্য না এলেও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন,বিভিন্ন ধর্মের আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কি একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়?
 

Read more!
Advertisement
Advertisement