
কলকাতার বুকে কি এবার তৈরি হতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি? রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা এই বিষয় নিয়েই। বুধবার নবান্ন থেকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, আগামী ৬ জুলাই এই প্রকল্পের জন্য ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হবে।
৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী। ১৯০১ সালের এই দিনেই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে কোনও পরিবর্তন হলে তাঁর পরিবর্তে ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বিশেষভাবে স্মরণ করতেই এই উদ্যোগ নিতে চাইছে বিজেপি। দিল্লির বিজেপি সূত্রের মতে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে স্থান নির্ধারণ হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিজেপির দাবি, দেশের কোথাও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এত বড় মূর্তি নেই। তাই কলকাতার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা হবে দেশের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে উঁচু স্মারক।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা, ৯৮ বছর বয়সী মাখনলাল সরকার। ১৯৫০ সালে কাশ্মীর আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে একই জেলে বন্দি ছিলেন তিনি।
সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে মাখনলাল সরকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। পরে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের দিনে আমাদের সকলের উচিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করা। দেশ এবং বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের প্রতি তাঁর অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করা।'
বিজেপি সূত্রের দাবি, কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তির ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে পারেন প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধা মাখনলাল সরকার। রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে এই অনুষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।