
'ছাত্র-ছাত্রীদের জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল ABVP সদস্যরা।' এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলছে বাম ছাত্র সংগঠগুলি। তাদের দাবি বহিরাগত নিয়ে এসে অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে ABVP। পাল্টা RSS-এর এই ছাত্র সংগঠনের দাবি, তাদের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের মধ্যে মারধর করা হয়েছে তাদের সদস্যদের। বুধবার রাত থেকে যাদবপুরে ঠিক কী কী ঘটেছে? কেন আচমকা উত্তেজনা? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in.
যাদবপুরে তুলকলাম
দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে বুধবার রাতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ডাকা GB (সাধারণ সভা) কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। যা ক্রমে হাতাহাতিতে গড়ায়। দু'তরফেরই একাধিক ছাত্র আহত হন। ABVP সদস্যদের KPC মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং বাম ছাত্রদের বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ বৃহস্পতিবার সকালে ABVP এবং যাদবপুরের বাম ছাত্র সংগঠনগুলি আলাদা আলাদা জমায়েত কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
মারধর করার অভিযোগ ABVP-র, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ডাক
bangla.aajtak.in-কে ABVP-র ইউনিট প্রেসিডেন্ট নিখিল দাস বলেন, 'FETSU-র তরফে DSF একটা GB ডেকেছিল। কেন এবং কীভাবে ডাকল জানি না। কারণ এখন তো নির্বাচনই হয়নি। ওরা আসলে নিজেদের হাতে ইউনিয়নের দখল রাখতে চাইছে। কিন্তু আমরা চাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক। আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিজ্ঞান বিভাগে আমরাই জিতব।' বুধবার রাতের ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিখিল বলেন, 'ABVP সদস্যরা ওই GB-তে উপস্থিত ছিল। সেই নিয়ে ওরা আপত্তি তোলে। DSF-এর কিছু সদস্যের বক্তব্য ছিল, কেন ABVP মিটিংয়ে থাকবে। সেই থেকেই বচসা শুরু হয়, যা ক্রমে হাতাহাতিতে গড়ায়। ৮টা সাড়ে ৮টা নাগাদ মারপিট শুরু হয়। আমাকেও মারধর করা হয়েছে। আরও অনেকেই আহত হন।' FETSU-র ইউনিয়ন রুমে দেশবিরোধী স্লোগান এবং গ্রাফিটি ছিল বলেও অভিযোগ নিখিলের। তাঁর বক্তব্য, 'ক্যাম্পাসের ভিতর এই ধরনের দেশবিরোধী কাজ আমরা হতে দেব না। ক্যাম্পাসকে মুক্ত করে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করব।' পাশাপাশি ABVP-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, 'যাদবপুরে গণতান্ত্রিক ভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।'
অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর অভিযোগ
পাল্টা bangla.aajtak.in-কে যাদবপুরের প্রাক্তনী তথা SFI-এর কলকাতা জেলা সম্পাদক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'FETSU-র GB-তে দু'পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকানো হয়েছে, কে ডেকেছে জানি না। আচমকাই আমরা দেখি কোনও নিরাপত্তা নেই কোনও গেটে। ABVP বহিরাগতদের ঢুকিয়েছিল। ওরা বাম সংগঠন এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তাড়া করে। অরবিন্দ ভবনের ভিতর যখন ছাত্রছাত্রীরা ঢোকে, বাইরে ওরা আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ছাত্রছাত্রীদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল।'
শর্বরী বনাম সৃজন
কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। SFI-এর কয়েকজন সদস্যের নাম করে SFI-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ করে শর্বরী বলেন, 'এক ঘণ্টার মধ্যে এদের থানায় সারেন্ডার না করালে সৃজন যেখানে লুকিয়ে আছেন, সেখান থেকে টেনে বের করব।' পাল্টা ছাত্রভোটের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, 'ছাত্রদের বচসার মধ্যে প্রথমে SFI কোথাও ছিল না। পরে শুনছি BJP ভাঙচুর চালাচ্ছে। এত ভয় কীসের? যাদবপুরকে অপচ্ছন্দ হলে ছাত্রভোট ঘোষণা করুক। SFI-এর সঙ্গে ভোটে লড়ুক।'