Advertisement

June Malia: 'তারকাদের রাজনীতিতে আনা বন্ধ করুন,' bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন 'বিদ্রোহী' জুন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গীদের মধ্যে প্রথমসারিতেই দেখা যেত তাঁকে। সেই জুন মালিয়া প্রিয় দিদির সঙ্গ ছেড়ে যাচ্ছেন NDA শিবিরে। মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে। কেন আচমকা শিবির বদলের সিদ্ধান্ত? সবটা জানালেন মেদিনীপুরের সাংসদ।

জুন মালিয়াজুন মালিয়া
রূপসা ঘোষাল
  • কলকাতা ,
  • 10 Jun 2026,
  • अपडेटेड 4:13 PM IST
  • দিদির সঙ্গ ছেড়ে যাচ্ছেন NDA শিবিরে
  • মনে করছেন, শুভেন্দুর নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে
  • কেন আচমকা শিবির বদলের সিদ্ধান্ত জুন মালিয়ার?

'হ্যাঁ, আমি NDA-তে যুক্ত হওয়ার জন্য জমা করা চিঠিতে সই করেছি।' এই কথা দিয়েই bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথোপকথোন শুরু করেন তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদ জুন মালিয়া। দিদির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকলেও, তিনি যে দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না, তা নাকি নিজেই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মেলেনি কোনও সাড়া। IPAC নিয়েও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে তা দেখেই BJP নেতৃত্বাধীন NDA শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানালেন। 

জুন মালিয়ার কথায়, 'এইসব সিদ্ধান্ত কখনও হঠাৎ করে হয় না। আমি মেইনস্ট্রিম পলিটিশিয়ন নই। আমাদের সিনিয়রাও বলে এসেছেন, আর আমিও বুঝি, আমাদের মতো তারকাদের নিয়ে আসা হয় জনপ্রিয় বলে। যেখানে যেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয় আমাদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। আমি তো ২ বারই কঠিন কেন্দ্র মেদিনীপুরে জিতেছি।' 

কেন রাজনীতিতে এসেছিলেন?  
জুন বলেন, 'একজন সিনিয়র সাংসদ অনেক কিছু বলছেন, শুনছি। কিন্তু স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আমায় ফোন করে বিধানসভায় দাঁড়াতে বলেছিলেন। আমি অনুরোধ করেছিলাম, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি এ সবের জন্য নই। জানিয়েছিলাম, ওঁর সমর্থনেই পাশে থাকব সবসময়। ক্যাম্পেনও করতে পারি। কিন্তু কোনও কথা শুনতে চাননি দিদি। অগত্যা চোখ বন্ধ করে আমি মেদিনীপুরে চলে যাই। সবাই আমাকে বলেছিল, দিদি তোকে এত ভালোবাসে তাও এত কঠিন আসনে পাঠাল।'

মমতার মুখের জন্যই কি ভোটে জেতেন জুন?
৩ বছরের বিধায়ক এবং ২ বছরের সাংসদ জুন মালিয়া। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, যাঁরা বিদ্রোহ করছেন, তাঁরা মমতার নাম-প্রতীক ছাড়া জিততে পারতেন না। এ প্রসঙ্গে জুন বলেন, 'আমি তো বানিয়ে বলব না। মেদিনীপুরের মানুষ বলবেন। কুণালবাবু বলতেই পারেন। মমতাদি নিঃসন্দেহে বড় নেত্রী, তাঁর সিম্বল গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিধানসভা-সংসদে আমার উপস্থিতি দেখেই বোঝা যাবে। জুন মালিকা তারকা বলে কোনওদিন ফাঁকি মারেনি। আমি মানুষের পাশে থেকেছি।'

Advertisement

মমতার প্রতি আস্থা হারিয়েছেন?
জুন বলেন, 'দিদির প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে না। কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত স্তরে। দিদির নামে একটাও কুকথা বলব না। দিদিকে লুকিয়েও কিছু করিনি কখনও। দিদিকে জানিয়েছি, মেসেজ করে বলেছি সব। দিদির কাছে একটা কিছু কোনওদিন চাইনি।' তাঁর সংযোজন, 'অনেকে বলছে, আমরা সুবিধাবাদী-সুযোগসন্ধানী। ওই ব্র্যাকেটে আমি পরি না। দিদিও জানেন, জুন কেমন। এখন দ্বিমত হয়েছে কারণ আমি মানুষের কাজ করতে চাই। মানুষের উন্নয়ন আটকে রাখা যাবে না। মানুষ ২ বার আমার উপর ভরসা করে একবার বিধায়ক এবং একবার সাংসদ বানিয়ে এনেছেন। আমি কি কাজ করব না তাহলে?'

কেন সিদ্ধান্ত নিলেন NDA-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার? 
জুনের কথায়, 'আমি ফেড আপ হয়ে গিয়েছিলাম। যখনই কাজ নিয়ে কিছু বলতে গিয়েছি, কিছুই হয়নি। আমি তো রাজনীতি করতে আসিনি, মানুষের উন্নয়ন করতে এসেছি। কিন্তু সেটাই হচ্ছিল না।' তিনি আরও বলেন, 'চিংড়িঘাটার এতবড় জট ৫ দিনে ছাড়িয়ে ফেললেন। ট্র্যাফিকের কোনও সমস্যা হল না। একটা ভরসা আসছিল, এরা কাজ করছে। তার মানে এরা উন্নয়নের পক্ষে। তাই আমার সিদ্ধান্তও উন্নয়নের পক্ষে।' 

IPAC নিয়ে বিস্তর অভিযোগ
জুন মালিয়ার দাবি, তিনি বহুবার IPAC-এর সঙ্গে কাজ করার সমস্যা নিয়ে দলের উপরমহলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। সাংগঠনিক স্তপের মিটিংয়েও কেন্দ্রের সাসংদদের রাখা হত না। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। 

তারকাদের রাজনীতিতে আসা অনুচিত মনে করছেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, 'যখন প্রয়োজন আমাদের টিকিট দেওয়া হবে আর সুট করছে না বলে আমরা সুবিধাবাদী? তারকাদের রাজনীতিতে আনাই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমাদের ব্যবহার করা বন্ধ করুন। আখেরে গালি আমরা খাচ্ছি।'

আগামী পরিকল্পনা কী? 
জুন মালিয়া জানান, তাঁদের ২০ জন সাংসদের আগামী পরিকল্পনা কী তা জানা যাবে সংসদের বাদল অধিবেশনে। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement