
কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিজের বাসভবনে সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল নেত্রী। আর তারপরই নিজের অভিমান প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন মমতার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা কাকলি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখেছেন?
ফেসবুক পোস্ট করে শুক্রবার সকালে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লেখেন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।' তাঁর এই পোস্টে অভিমান ঝড়ে পড়েছে। আর এ কথা তিনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই বলেছেন, তা সহজেই অনুমেয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মমতা যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন একইসঙ্গে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন কাকলিও। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন, মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজে। সেই সময়েই কাকলির সঙ্গে মমতার পরিচয় হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয়, একসঙ্গে পথ চলা এবং তারপর ভাল-মন্দ উভয় সময়ে অনুগত থাকার কথাই এখানে বোঝাতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁকে লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে কল্যাণকে নিয়ে আসা, কাকলি যে মেনে নিতে পারেনি, সেটাই বোঝা যাচ্ছে কাকলির এই পোস্টে।
তাঁকে একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করা হলেও, ফোনে পাওয়া যায়নি।
কেন কাকলিকে সরিয়ে দিলেন মমতা?
দলের প্রতি আনুগত্য এবং লড়াইয়ের মনোভাবই এখন তৃণমূলের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। সেক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত থেকে শুরু করে পথে এবং 'দিদি'-র পাশে বারবার স্পষ্ট মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছে সরব হতে। তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব তুঙ্গে থাকার সময় দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে কল্যাণকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু আবার কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে দল ফের তাঁকেই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা নিছক একটা বদল নয়। এর পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। দলের একাংশের ধারণা, ভোটের ফলপ্রকাশের পরে দল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলির ছেলের একটি পোস্ট ঘিরেই এই বদল। যেখানে CPIM রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সম্পর্কে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তারপরই কাকলিকে সরানো এবং কাকলির এই পোস্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।