
শীতের আবহেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন ৭ ডিসেম্বরের আগেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট হয়ে যাবে। সেই মতোই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। এখনও পর্যন্ত খবর, নভেম্বরের শুরুতেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দেবে বিজেপি সহ সব রাজনৈতিক দল। নবান্ন জয়ের পরে এ বার বিজেপি-র টার্গেট ছোট লালবাড়ি।
২০২১ সালে কবে হয়েছিল কলকাতা পুরভোট?
২০২১ সালে ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভার ভোট হয়েছিল। রেজাল্ট বেরিয়েছিল ২১ ডিসেম্বর। এ বারও ডিসেম্বরেই পুরভোট হতে চলেছে। তবে ভোটের তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোটগ্রহণ হতে পারে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের অবসান ঘটে। গত জুনে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগ করে নবান্ন। ফলে কলকাতার পুরপরিষেবা পরিচালনার দায়িত্ব যায় প্রশাসনের হাতে। তবে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন করানোর যে নিয়ম একসময় চালু ছিল, তা পরবর্তী সময়ে বদলে যায়। এখন অনির্দিষ্টকাল প্রশাসকের অধীনে পুরসভা চালানোর সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন অবস্থায় রয়েছে হাওড়া
২০২০ সালে কলকাতা-সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন না করিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজনৈতিক মহলে সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ ছিল বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন অবস্থায় রয়েছে হাওড়া। সেখানে শেষ পুরসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের অধীনেই চলছে পুরসভা। দীর্ঘ আট বছর ধরে হাওড়ার বাসিন্দারা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নিজেদের এলাকার নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাননি। হাওড়ার রাস্তাঘাট, পরিবেশের অবস্থাই তার প্রমাণ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার পুরভোট ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, বিজেপি কাদের প্রার্থী করবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিয়ে পুরভোটে টিকিট পেতে পারেন। যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীকের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি একই থাকবে তো?
তাঁর বক্তব্য, মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুধুমাত্র দল বা জামা বদলের জন্য ভোট দেননি, বরং ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দলবদলু নেতাদের প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি রাজ্যসভায় তৃণমূলের চার সাংসদের পদত্যাগ এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপির মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পদত্যাগের পর এবং বিজেপির মনোনয়ন পাওয়ার আগে তাঁদের প্রত্যেকেরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার পুরভোটেও কি একই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা যাবে? তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা থাকবে, নাকি নতুন মুখকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে? শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনের বাস্তব ছবির কতটা মিল থাকবে, এখন নজর সেদিকেই।