
হীরে চুরি করতে গিয়ে গুপী-বাঘার চক্ষু চড়কগাছ হয়েছিল বাঘমামাকে দেখে। তারপর গান গেয়ে তাকে বশ করে রাখার কাহিনি আমাদের সকলেরই জানা। আপনার কাছে গুপী-বাঘার মতো ভূতের রাজার বর না থাকলেও 'পোষ মানাতে' পারবেন হলদে-কালো ডোরাকাটা এই রাজকীয় প্রাণিকে। প্রয়োজন মাত্র ২০ হাজার টাকার। অবাক হচ্ছেন? আলিপুর চিড়িয়াখানা দিচ্ছে এমনই এক অভিনব সুযোগ। শখ থাকলে একটা-আধটা বাঘ দত্তক নিতে পারেন আপনি। তারপর তার সমস্ত ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আপনার।
আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে যে কোনও বাঘ পছন্দ করে তাকে দত্তক নিতে পারেন আপনি। তবে হ্যাঁ, শখ থাকলেও বাঘ বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না আপনি। সে থাকবে তার আপন খেয়ালে নিজস্ব 'ডেরা'-তে। আর তার সমস্ত যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আপনার। তার পছন্দের হরিণ কিংবা ছাগলের মাংস কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে গরমে স্নান করানো কিংবা দৈনন্দিন পরিচর্যার ভার নিতে হবে প্রতি মাসে। কীভাবে হবে সবটা?
শখ থাকলেও বাঘ তো আর বাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই আলিপুর চিড়িয়াখানা এমন একটি সুযোগ দিচ্ছে, যেখানে আপনি একটি বাঘের অভিভাবক হতে পারবেন, চিড়িয়াখানার ‘Animal Adoption Programme’-এর মাধ্যমে। নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে একটি বাঘের খাবার, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন পরিচর্যার সব খরচ বহন করতে পারেন আপনি।
কীভাবে বাঘকে দত্তক নেবেন?
‘Animal Adoptation Programme’ একটি ফস্টার বা স্পনসরশিপ প্রকল্প। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাঘের রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় সব খরচ আপনি বহন করতে পারবেন।
সংগৃহীত অর্থ কী কী ভাবে ব্যবহার করা হয়?
> দত্তক নেওয়া বাঘের প্রত্যেকদিনের খাবারের জন্য খরচ করা হয়।
> তাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ বহন করা হয়।
> ভেটেরিনারি সমস্ত পরিষেবার খরচ দেওয়া হয়।
> বাঘেদের পরিচর্যা ও নিরাপত্তার খরচও জোগানো হয়।
বাঘ দত্তক নিতে কত টাকা লাগে?
আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ দত্তক নেওয়ার জন্য মাসিক ও বার্ষিক স্কিম আছে।
> বার্ষিক স্পনসরশিপের জন্য আপনাকে দিতে হবে এককালীন আড়াই লক্ষ টাকা।
> মাসিক স্পনসরশিপের জন্য দিতে হবে ২০ হাজার টাকা।
কারা নিতে পারবেন বাঘ দত্তক?
এই প্রকল্প সকলের জন্য। ‘Adoptation Programme’-এ সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও কোনও সংস্থা বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন আলিপুর চিড়িয়াখানার বাঘ অ্যাডপ্ট করতে পারবেন।
বাঘ দত্তক নেওয়ার নিয়মগুলি কী কী?
বাঘ দত্তক নেওয়ার জন্য আপনাকে মানতে হবে কয়েকটি স্টেপ
> প্রথমে আলিপুর চিড়িয়াখানার অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ০৩৩-২৪৭৯১১৫০ বা +৯১ ৬২৯২৩৩৬৬৮০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়াও West Bengal Zoo Authority-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-মেলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারবেন।
> বাঘ দত্তক নেওয়ার জন্য যাবতীয় তথ্য https://kolkatazoo.in/web/adopt/ ওয়েবসাইট থেকে পেয়ে যাবেন।
> এরপর আপনাকে নির্বাচন করতে হবে স্পনসরশিপের মেয়াদ। অর্থাৎ আপনি কতদিন এই স্পনসরশিপ চালাতে চান।
আবেদনকারীর কী কী তথ্য প্রয়োজন?
> আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হয়।
> কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের যাবতীয় যোগাযোগের তথ্য ও প্রয়োজনীয় লোগো দিতে হবে।
> আবেদন করার জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরই আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
> দত্তক নেওয়ার পরে আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে স্পনসর হিসেবে।
Enclosure 68 – Bengal Tiger Enclosure, Enclosure 34 – White Tiger Open Reserve- এই দুই এনক্লোজারের বাইরের বোর্ডে স্পনসর বা দত্তক গ্রহণকারীদের নাম জ্বলজ্বল করবে। পাশাপাশি https://kolkatazoo.in/web/adopt-adopter.php ওয়েবসাইটেও যারা দত্তক নিয়েছেন তাঁদের নাম, অর্থের পরিমাণ দেওয়া থাকে।
কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন-
> দত্তক নেওয়া বাঘ থাকবে তার খাঁচতেই।
> দর্শনার্থীরা আগের মতোই তাকে দেখতে পারবেন।
> বাঘের সমস্ত দেখভাল চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষই করবে।
বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ তাদের সংখ্যা বাড়ানো ও নিরাপদে রাখার জন্যই এই উদ্যোগ আলিপুর চিড়িয়াখানার।
তবে কেবলমাত্র বাঘ নয়। অন্য প্রাণিও আপনি দত্তক নিতে পারেন। যেমন-
> অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক এক বছরের জন্য একটি শিম্পাঞ্জির অভিভাবক ছিলেন।
> রোটারি ক্লাব একটি ফিশিং ক্যাট দত্তক নেয় ৩০ হাজারের বার্ষিক চুক্তির বিনিময়ে।
> স্কারলেট ম্যাকাউ দত্তক নিতে বছরে খরচ ১০ হাজার।
> মাত্র ৫ হাজার দিলেই ১ বছরের জন্য দত্তক নেওয়া যাবে বার্ন পেঁচা।
> ম্যান্ডারিন হাঁস ৫ হাজারের বিনিময়ে ১ বছরের জন্য দত্তক নিয়েছিলেন আশুতোষ কলেজের বোটানির অধ্যাপক।
> বেঙ্গালুরু থেকে এক ব্যক্তি দত্তক নিয়েছেন কচ্ছপও।