
উত্তর কলকাতার পরিচিত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে শনিবার সন্ধ্যায় বড়সড় দুর্ঘটনা। মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১৭। আহত আরও অনেকে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের শিউরে ওঠার মতো বক্তব্যে প্রশ্ন উঠে গেল পুজোর নিরাপত্তা নিয়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী দুর্ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,'অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। কয়েক জনকে মোটরবাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমার আশপাশে এই সবই ঘটতে দেখেছি। মানুষ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের বাইকে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। চারদিকে হুড়োহুড়ি আর বিশৃঙ্খলা'।
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ,'মণ্ডপে প্রবেশের গেটটি খুবই সরু ছিল। বেরোনোর গেটটিও ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, ওই এলাকায় আলোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এই অব্যবস্থার জেরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আমার মেয়ে ও নাতনিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে'।
বৃষ্টির মধ্যে ভিড়ের চাপে বিপত্তি
কলকাতা পুলিশের বক্তব্য, ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যায়। সেই চাপেই গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরবাগান পুজো মণ্ডপের বেরোনোর গেটে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, কন্ট্রোল রুমের বাহিনী, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স। দ্রুত পদক্ষেপ করে আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য পুজো মণ্ডপ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে আহতদের দেখতে মুখ্যমন্ত্রী, হেল্পলাইন চালু
দুর্ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিজনদের সাহায্যের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দুর্ঘটনা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য জানতে ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।