
শহর জুড়ে চিংড়িহাটা ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে গড়িয়াহাট ব্রিজে রংধনু রং করা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। পুজোয় শহরে সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু দেখা গিয়েছে, বাইক চালকরা বৃষ্টির সময় এই রঙের উপর স্লিপ করে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। এবার দেখা গেল গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে সেই রংধনু রং। কুণাল ঘোষ এই মর্মে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বৃহস্পতিবার সকালের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পুরসভার একটি অত্যাধুনিক গাড়ি ঘষে ঘষে ব্রিজের উপর থেকে রংধনু রং মুছে দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কুণাল লেখেন, 'অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন? দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কাদের টাকার শ্রাদ্ধ হল? চিংড়িহাটার দুর্ঘটনার পর গড়িয়াহাটের রং তোলার ছবি থেকে যাক।'
এদিন সকালেই দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনা এড়াবার জন্য চিংড়ি ঘাটা ফ্লাইওভারে বসানো হয়েছে হলুদ রঙের ফাইবার ব্লক। কিন্তু সেই ব্লক বসেনি গড়িয়াহাট ব্রিজে। বরং সেই ব্রিজের উপর থেকে রং মুছে দেওয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে।
চিংড়িহাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুলছেন খোদ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তাঁর দাবি, তেল রং নয়, অ্যান্টি স্কিড রংও ব্যবহৃত হয়েছিল। তিনি জানান, যে রং ব্যবহার করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু তারপরও কীভাবে চাকা স্কিড করল, সেটা ইঞ্জিনিয়াররাই বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে, চিংড়িহাটার দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ আসানসোলেও। শহরের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের আশপাশের রাস্তায় সৌন্দর্যায়নের জন্য যে রং করা হচ্ছিল, তা তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট রং সংস্থার কর্মীরা। মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। পুজোর আগে কলকাতার পাশাপাশি আসানসোল শহরকেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই আসানসোলের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের চারপাশের রাস্তা বিভিন্ন রঙে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছিল। এই কাজে বিভিন্ন রং প্রস্তুতকারী সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। কলকাতায় বৃষ্টির মধ্যে রং করা রাস্তার উপর একের পর এক মোটরবাইক পিছলে পড়ার দৃশ্য সামনে আসে। আসানসোলেও যাতে একই ধরনের কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই সতর্কতা থেকেই সদ্য রং করা অংশ তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।