
নিট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুলাই কলকাতার বুকে যৌথ মিছিল করেছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সেখানে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। চলে ধর-পাকড়। মঙ্গলবার ওই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১৬ জন আন্দোলনকারীকেই জামিন দিল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ৫০০ টাকার বন্ডে আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে।
সুপ্রিম কোর্টের এক সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বার্তার কথা আদালতে তুলে ধরেন ধৃতদের আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত সরকারি আইনজীবীরা জামিনের তীব্র বিরোধিতা না করায় বিচারক সব অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার মিছিল ও ধরনা কর্মসূচিতে হওয়া অশান্তির মামলায় গ্রেফতার ১৬ জনকেই আদালতে পেশ করা হয়। সকালে শুনানির সময়ে সরকারি আইনজীবীরা প্রথমে তাঁদের জামিনের বিরোধিতা করে জেল হেফাজতের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
তবে দুপুরের পর শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়ালকারী আইনজীবী ইয়াসিন রহমান, রাজা সেন এবং প্রশান্ত বাগচীরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি আদালতে জমা দেন। তাঁরা দাবি করেন, নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি বা বিহারসহ দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রের সম্মতির বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়।
এরপর বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ধৃত ১৬ জনের মধ্যে কারোর বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনও অপরাধের রেকর্ড (Criminal History) রয়েছে কি না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, যাদের অতীতে অপরাধমূলক রেকর্ড আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানান, ১৬ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে পুরনো রেকর্ড রয়েছে। তবে এই ৫ জন আগের কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কি না, তার স্পষ্ট প্রমাণ বা উত্তর পুলিশ পেশ করতে পারেনি। এর পরেই আদালত ১৬ জনকেই জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৪ জুলাই বামেদের একাধিক ছাত্র সংগঠন (যার মধ্যে SFI-ও ছিল) রাস্তায় নেমেছিল। শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড (ধর্মতলা) পর্যন্ত বিশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ ওঠে, সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। আপত্তিকর পোস্টার, প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগানের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপরেও আক্রমণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এরপরই সেই অশান্তির তদন্তে নেমে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে আপাতত জামিনে মুক্ত হলেন সকলেই।