Advertisement

Kolkata Fire: আনন্দপুর থেকে নিউমার্কেট, শহরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ কী?

বুধবার রাতে শিক ইন হোটেলের তৃতীয় তলায় লাগে আগুন। দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই বহুতলের সিঁড়ি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়া গোটা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে।

কলকাতায় আগুনের কারণ কীকলকাতায় আগুনের কারণ কী
তাপস সেনগুপ্ত
  • কলকাতা ,
  • 19 Aug 2026,
  • अपडेटेड 4:05 PM IST
  • বারবার কলকাতায় আগুন।
  • অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন। ৯ জনের মৃত্যু। যা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কলকাতায় পরিকাঠামোগত গাফিলতি। এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে সমস্যা আরও গভীরে- জীর্ণ পরিকাঠামো, নজরদারির অভাব এবং অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন!

বুধবার রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টোর মধ্যে 'শিক ইন'-এর তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। আগুন একটি নির্দিষ্ট অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু হোটেলটির নির্মাণগত ত্রুটিই পরিস্থিতি  ভয়াবহ করে তোলে। দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাঁচতলা ওই বহুতলের সিঁড়ি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়া গোটা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বহু মানুষ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। মৃত ৯ জনের মধ্যে ছিলেন দুই মহিলা এবং একটি শিশুও। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের কয়েক জন বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন।

উদ্ধারকারী দল ৬০ থেকে ৮০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়। তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ এবং আগুনে আহত ৮ জনকে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতার মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের ধোঁয়া শরীরে ঢুকে দমবন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আবার কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ। 

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক দশকে কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে একই ছবি দেখা গিয়েছে। বেরোনোর জায়গা নেই। নেই আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। নিট ফল উদ্ধারকাজে দেরি। এর জেরে কর্মস্থল থেকে বসতবাড়ি, কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্টিফেন কোর্ট, মার্চ, ২০১০

পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের অনেকেই বহুতলের উপরের তলায় আটকে পড়েছিলেন। ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন ভবনের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি হয়। কিন্তু সেই সব কমিটির বহু সুপারিশ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।

Advertisement

আমরি হাসপাতাল, ডিসেম্বর, ২০১১

ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে বেসমেন্টে আগুন লাগে। দ্রুত গোটা ভবনে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯৩ জনের। কলকাতার ইতিহাসে এখনও অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।

আনন্দপুরের কারখানা, জানুয়ারি, ২০২৬

আনন্দপুরের একটি বেআইনি কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুনে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নিতে হয়েছিল।

একের পর এক এমন ঘটনার পরেও প্রশাসন কতটা সতর্ক হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনাও ফের সামনে নিয়ে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আগুন থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা কি কলকাতার বাড়িগুলিতে রয়েছে? সময়ে সময়ে কি সেগুলির পরীক্ষা করা হয়? ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে বাণিজ্যিক ভবনগুলি পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? কীভাবে মিলছে দমকলের লাইসেন্স?

রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, কীভাবে এমন কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

অগ্নিসুরক্ষায় বড় ফাঁক

এর আগে জোড়াসাঁকোর একটি অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্য সরকার ৩,৭৮৮টি হোটেলকে বাধ্যতামূলক অগ্নিসুরক্ষা পরিদর্শনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সরকারি নথি অনুযায়ী, সেই তালিকার ২০টিরও কম হোটেলে শেষ পর্যন্ত অডিট হয়েছে বলে অভিযোগ।

নজরদারির কমিটির কাজ কী?

কলকাতা পুরসভার আওতায় শহরের অগ্নি-ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, কয়েক বার বৈঠকের পরই সেই কমিটির কাজ কার্যত থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে তার কাজ আর সেভাবে এগোয়নি।

দমকল দফতরে কর্মীর অভাব

দমকল দফতরে তীব্র কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি তৃতীয় পক্ষের সংস্থার উপর নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে অভিযোগ। এখন পুরসভার লাইসেন্স দেওয়া বিভাগ এবং রাজ্যের জরুরি পরিষেবা দফতরের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি চললেও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন কলকাতার সাধারণ বাসিন্দা এবং শহরে আসা পর্যটক ও রোগীর পরিজনেরা।

কবে ফিরবে হুঁশ?

বারবার অগ্নিকাণ্ড, তদন্ত কমিটি এবং তার পরেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি একটি প্রশ্নই সামনে আনছে, প্রশাসন কি প্রতিটি বিপর্যয়ের পরে শুধু তদন্তেই থেমে থাকবে, নাকি আগুন লাগার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বহুতলগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এবং যথাবিহিত ব্যবস্থা নেবে?

কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অগ্নিকাণ্ড আর হবে কি হবে না-র প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হল, পরবর্তী বড় বিপর্যয় ঘটার আগে গাফিলতিগুলি শোধরানো হবে কিনা!

Read more!
Advertisement
Advertisement