
কয়েক বছর ধরে ফুটপাতই ওদের ঘর বাড়ি। আর ছাদ হল খোলা আকাশ। এতদিন কেউ ফিরেও দেখত না রশিদাদের দিকে। কিন্তু গত কয়েক দিনে আমুল বদলে গিয়েছে চিত্র। গত ২ দিনে রশিদাকে চিনে নিয়েছেন অর্ধেক কলকাতাবাসী। আসলে পার্কস্ট্রিটে ফুটপাতে যে মহিলাকে দুধ গরম করতে দেখে ধমক দিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেই মহিলাই হলেন রশিদা। অবশ্য কোনও এককালে তাঁর নাম ছিল সীতা।
কেন আজ ফুটপাতে রশিদা?
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ রবিবার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় গিয়ে দেখা করেছেন রশিদার সঙ্গে। সেখানে ফুটপাতবাসিনী তাঁকে ঠিক কী কী বলেছেন, তা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। সেই পোস্ট থেকেই জানা গিয়েছে ফুটপাতে দুধ গরম করা রশিদার জীবনের নানা পর্ব।
জানা গিয়েছে, আজকের রশিদা আদতে পঞ্জাবের মেয়ে। এককালে তাঁর নাম ছিল সীতা। এরপর এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। নতুন নাম হয় রশিদা। কিন্তু সাংসারিক জীবন সুখের হয়নি তাঁর। স্বামী ছেড়ে চলে যায় রশিদাকে। এক ছেলে আর দুই মেয়ে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন তিনি। কিন্তু দুঃখের শেষ এখানেই নয়। কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যায় ছেলে। একা দুই মেয়েকে নিয়ে লড়াই শুরু করে রশিদা।
এরমধ্যেই বিয়ে দেন এক মেয়ের। কিন্তু তারও কপাল পোড়া। মেয়ের স্বামীও তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। বাড়ি না থাকায়, মেয়ে আর একটি ছোট শিশুকে নিয়ে ফুটপাতেই থাকতে শুরু করেন রশিদা। আবর্জনা কোড়ান, ঝাড়ু দেন আর কাগজ কুড়ান।
রশিদা দাবি করেছেন, আশেপাশের দোকানদারদের সঙ্গে তাঁর কোনও ঝামেলা নেই। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী সরে যেতে বলার পরেই পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বলেছে। ফলে অথৈ জলে পড়েছেন তাঁরা। কোথায় যাবেন তাঁরা? মাথা গোঁজার মতো কোনও আস্তানা যে তাঁদের নেই। আবার কোনও ফুটপাত নাকি, অন্য কোনও জায়গা- হদিশ খুঁজছেন রশিদারা।
কুণাল ঘোষ কী জানিয়েছেন?
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে পার্ক স্ট্রিট থানার সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি মানবিক ভাবে দেখার জন্য পুলিশকে আহ্বান করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশও তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে সেক্ষেত্রেও রশিদাদের সরতেই হবে। কারণ ফুটপাত সত্যি অর্থেই থাকার জায়গা নয়। কিন্তু 'বাচ্চার জন্য দুধ গরম করা নিয়ে' যে বিতর্ক দানা বাঁধল, তাতে কি আদৌ মাথা গোঁজার কোনও আস্তানা বা হোম খুঁজে পাবে রশিদারা? সময়েই মিলবে উত্তরও।