
Kolkata Howrah Municipal Election 2026: পুরভোটের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নামছে বঙ্গ বিজেপি। কলকাতায় পুরভোটের দায়িত্ব দেওয়া হল সুকান্ত মজুমদারকে। হাওড়ার দায়িত্বে রাহুল সিনহা। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি পুরনিগম নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করে। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ইনচার্জ হিসাবে থাকছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কো-ইনচার্জ হয়েছেন রাজ্য সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (রাজু)। অন্যদিকে, হাওড়ায় ইনচার্জ করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাকে।
কলকাতায় কনভেনর করা হয়েছে তাপস রায়কে। কো-কনভেনর হয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি। হাওড়ায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিং।
এদিন বিকেলে বিজেপি সম্পূর্ণ তালিকা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অর্থাৎ ভোটের প্রস্তুতি আর শুধু বৈঠকেই আটকে থাকছে না। আগেভাগেই মাঠে নেমে সাংগঠনিক কাজ শুরু করতে চাইছে বিজেপি।
কলকাতা নিয়ে বিশেষ কমিটি বিজেপির
আগামী নভেম্বরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই কলকাতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরভোটের জন্য পৃথক কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
এই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন তাপস রায়। সদস্য হিসাবে রয়েছেন সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ দলের একাধিক নেতা ও কার্যকর্তা। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কে যাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদেরই এই কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এই কমিটির কাজ কী?
পুরভোটের আগে বিজেপির প্রচার কৌশল ঠিক করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছনো হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করবে এই কমিটি। কোন বিষয়গুলিকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে, জনসংযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই রণকৌশলও ঠিক করা হবে।
শুধু প্রচার নয়, বিজেপির পুরভোটের সংকল্পপত্রে কী কী বিষয় থাকবে, তা নিয়েও এই কমিটি কাজ করবে। পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও আলোচনা হতে পারে।
বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক রাজ্য নেতৃত্বের
পুরভোটের প্রস্তুতিতে এদিন কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণের বিধায়কদের নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক হয়। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
ছিলেন সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ দলের কোর কমিটির সদস্যরা। সংগঠন, প্রচার এবং ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
এত তৎপরতা কেন?
কলকাতা পুরসভার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমাও বিজেপির তৎপরতার অন্যতম কারণ। সব কিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরেই ভোট হতে পারে। তার আগে দলীয় সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত সক্রিয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এমনিতেই অক্টোবর মাসে পুজোর মরসুম। তারপর দীপাবলি। আগেভাগেই প্রস্তুতি না নিলে নভেম্বরে গিয়ে তাড়াহুড়ো হতে পারে। সে কারণে এখন থেকেই তোড়জোর।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া পুরনিগমকেও আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুই পুরনিগমের জন্য পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করে বিজেপি কার্যত বুঝিয়ে দিল, আসন্ন পুরভোটকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না তারা।