
সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য নতুন কোড অফ কনডাক্ট জারি করল কলকাতা পুলিশ। এই নয়া কনডাক্টে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের পারফরম্যান্সের পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি ৩ মাসে রিভিউ করা হবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজ। গুরুতর নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে চাকরি থেকে বরখাস্ত-সহ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নয়া নিয়মে। রবিবার পুলিশ আধিকারিকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ইতিমধ্যেই ওই নির্দেশিকায় স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন। এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হল সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজকর্মের প্রতি আরও বেশি দায়বদ্ধ করে তোলা। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কর্তব্যে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, কোনও অপরাধমূলক মামলায় জড়িয়ে পড়া, দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকা, দুর্নীতি, তোলাবাজি অথবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনও ভুল কিছু প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার শারীরিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা চিকিৎসাজনিত কারণে চাকরি চালিয়ে যেতে না পারলে ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জ অথবা কোনও ইউনিটের প্রধান সিভিক ভলান্টিয়ারদের আচরণ ও কাজের পারফরম্যান্স নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই রিপোর্ট ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (হোমগার্ড)-এর কাছে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পদ্ধতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জকে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
টানা সাত দিন অনুমতি ছাড়া চাকরিতে হাজির না হলে প্রথমে WhatsApp-এর মাধ্যমে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে নোটিশ পাঠানো হবে। এরপর তাঁকে জবাব দেওয়ার জন্য আরও সাত দিন সময় দেওয়া হবে। সেই সময়ের মধ্যেও জবাব না এলে অথবা ওই সিভিক ভলান্টিয়ার অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় নোটিসেরও জবাব না দিলে অথবা তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।