
ধর্মতলায় ছাত্রদের মিছিলকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের অশান্তির ঘটনায় মোট ৬টি FIR দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৫টি FIR এবং পুলিশের তরফে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ ডোরিনা ক্রসিংয়ে (জওহরলাল নেহরু রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ মোড়) জমায়েত হন। অভিযোগ, পুলিশের কোনও অনুমতি ছাড়াই ওই জমায়েত করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সংগঠনের পতাকা ও ব্যানার বহন করছিলেন। মামলায় AIDSO, AIDYO, CPIM(L), DYFI, AISA, PDSF, AFSA, DSF, ISU এবং APDR-সহ একাধিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছিলেন এবং সমর্থকদের পুরো ডোরিনা ক্রসিং দখল করার জন্য উৎসাহিত করছিলেন। এর ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমাবেশটিকে পুলিশ বেআইনি ঘোষণা করে এবং বারবার এলাকা ছেড়ে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি। বরং নেতাদের নির্দেশে ভিড় পুলিশের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কর্মী এবং সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। এতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন।
কলকাতা পুলিশের আরও দাবি, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং তারা পুলিশকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করলেও পুলিশ সংযম দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে জমায়েতকে সীমাবদ্ধ রাখে। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল ও জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় অজ্ঞাতপরিচয় জনতার বিরুদ্ধে এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ।