
প্রতি বছরই হুগলি নদীতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা শোনে শহরবাসী। তবে সংখ্য়াটা ঠিক কত? বছরে কতজন মানুষ কলকাতার গঙ্গায় ডুবছে, সে সংখ্যা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। তবে এবার পরিসংখ্যান জানাল খোদ কলকাতা রিভার ট্র্যাফিক পুলিশ। গত চার বছরে কলকাতা রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের এলাকার মধ্যে হুগলি নদীতে জলে ডোবার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি।
তবে পুলিশের ওই তথ্য থেকে নিশ্চিত নয়, যে ১২৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে, নাকি কিছু লোককে উদ্ধার করাও সম্ভব হয়েছে। রিপোর্টে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ডুবন্ত মানুষটিকে ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় ‘খুঁজে পাওয়া গিয়েছে’ বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি ঘটনায় ‘উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
কলকাতা পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩৫টি ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছিল। এক বছর পর, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩০টিতে। ২০২৫ সালে ৩৪টি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আর চলতি বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত শহরে ৩০টি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কোন ঘাটে জলে ডোবার সংখ্যা কত?
চার বছরের তথ্য অনুযায়ী, শহরের দক্ষিণের বিচালি ঘাটে সবচেয়ে বেশি জলে ডোবার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘাটে ৯টি কেস রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর কলকাতার আহিরিটোলা ঘাট ও তার জেটিতে ৮টি ঘটনা ঘটেছে। নিমতলা ঘাট ও তার বিভিন্ন অংশ এবং টাকতা ঘাটে ৫টি করে ঘটনা ঘটেছে। বালি ব্রিজ ও বাঁধা ঘাটে ৪টি করে ঘটনা ঘটেছে। আর জগন্নাথ ঘাটে ৪টি ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে পুলিশি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, গোয়ালিয়র ঘাট, ফেয়ারলি জেটি এবং নজিরগঞ্জ জেটিতে ৩টি করে জলে ডোবার ঘটনা ঘটেছে। বারেন্দ্রপাড়া ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, শিবপুর ঘাট, বাগবাজার ঘাট, চম্পাতলা ঘাট, হাওড়া জেটি নম্বর ১ ও ফুলতলা ঘাটে ২ টি করে ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বাবুঘাট, চাঁদপাল জেটি, হুগলি ডক ঘাট, গোলাবাড়ি ঘাট, পাল ঘাট, কুটি ঘাট, সুরিনাম জেটি, মেটিয়াবুরুজ ফেরি জেটি, বিমল ঘাট, রাজগঞ্জ ঘাট এবং ফ্যান্সি ছোড়া ঘাট-সহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গাতেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশের আওতায় হুগলি নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৪০.৫৮ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। হুগলি জেলার কোন্নগর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বজবজ পর্যন্ত এই এলাকা বিস্তৃত। পুলিশের দেওয়া তথ্য বলছে, গত ৪ বছর এই এলাকাগুলিতে কখনই ডুবে যাওয়ার ঘটনা ৩০-এর কম নেই। এই বছর অগাস্টেই সেই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। ফলে এবছর ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
এক সিনিয়র আইপিএস আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো, কালীপুজো এবং ছটপুজোর মতো উৎসবের সময়ে হুগলির ঘাটগুলিতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। শ্রাবণ মাসেও একই ধরনের ভিড় দেখতে পাচ্ছি। সামনে আরও উৎসব রয়েছে, তাই নদীর ঘাটগুলিতে পুলিশ মোতায়েন বাড়াতে হবে। ডুবে যাওয়ার ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।