
গরম পড়তেই কলকাতার সুইমিং পুলগুলিতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাঁতারপ্রেমীরা। কিন্তু তার আগেই নেমে এসেছে অস্বস্তির খবর, শহরের একাধিক পুল বন্ধ হওয়ার মুখে। কারণ, জল পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিকের অস্বাভাবিক ঘাটতি।
পুল পরিচালকদের দাবি, এই সংকটের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্লোরিন-ভিত্তিক জীবাণুনাশকের উপর। এই রাসায়নিকগুলি ছাড়া পুলের জলকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়, ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে অনেক ক্ষেত্রেই পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞান বলছে, সুইমিং পুলের জলে ক্লোরিন মিশে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে, যা ব্যাকটেরিয়া ও শ্যাওলা ধ্বংস করে। কিন্তু এই মৌলিক উপাদানের জোগানেই যখন টান পড়েছে, তখন সমস্যার গভীরতা সহজেই অনুমেয়।
তবে এই পরিস্থিতির মাঝেই কিছু ‘অদ্ভুত’ রাসায়নিকের নাম ঘিরে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। 'ফুলসডিয়াম ক্লোরেট', 'ফ্যাটাস ম্যাক্সিমাস স্টেবিলাইজার' বা 'প্র্যাঙ্কিয়াম হাইড্রোক্সাইড', এমন সব নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেগুলোর অস্তিত্ব বা প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। অনেকের মতে, এগুলির কিছু হয়ত অতিরঞ্জিত বা ভুয়ো তথ্যের ফলও হতে পারে।
এদিকে, সরবরাহকারীরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রাসায়নিকের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে পুল পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সাধারণ সাঁতারুরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, এখন পুলে নামার আগে রাসায়নিকের নামই আগে মুখস্থ করতে হবে!
তবে আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। অনেকের মতে, এই ধরনের সংকট সাময়িক এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে এপ্রিলের শুরুর দিকেই অনেক সময় এমন ‘অদ্ভুত’ খবর সামনে আসে, যা পরে বাস্তবে ততটা গুরুতর প্রমাণিত হয় না। ততদিন পর্যন্ত, সতর্কতাই ভরসা। নিরাপদ রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার ছাড়া সুইমিং পুলে নামা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।