Advertisement

Taratala Update: প্রবল দুর্যোগে তারাতলায় উদ্ধারকাজ থমকে, আরও কতজন আটকে? মৃত বেড়ে ১১

তারাতলা বিপর্যয়ে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। দুর্ঘটনার পরে ২৪ ঘণ্টা পার করেও চলছে উদ্ধারকাজ। নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তুমুল বৃষ্টিতে থমকে উদ্ধার কাজ তুমুল বৃষ্টিতে থমকে উদ্ধার কাজ
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 25 Jun 2026,
  • अपडेटेड 3:19 PM IST

তারাতলা বিপর্যয়ে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা।  দুর্ঘটনার পরে ২৪ ঘণ্টা পার করেও চলছে উদ্ধারকাজ।  নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে এদিন দুপুরের ভয়াবহ বৃষ্টির জেরে থমকে গিয়েছে তারাতলার উদ্ধারকাজ। কার্যত উদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টি আর মুহুর্মুহু বজ্রপাতে আরও বিপদের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে ঢুকছে জল। এনডিআরএফ ও সেনা কাজ করতে পারছে না। বজ্রপাত, বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় তাঁদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আটকে থাকা কর্মীদের বিপদ আরও বাড়ছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ধসে নিহতদের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী (৩০), রোহিত চৌধুরী (৪০), রাহুল চৌধুরী (১৭), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), পাপ্পু রজ ক (৪০), আজগর হোসেন (৫৫), সাহিল সর্দার (১৭), ঘি কুমার (১৭) এবং আরও দু'জন, যাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।  শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের মালিকানাধীন একটি ইজারা নেওয়া জমিতে গুদামটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (কেএমসি) কমিশনার স্মিতা পান্ডে সহ রাজ্য সরকার ও পৌর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।

 

বৃষ্টি নামার আগে পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছিল। সম্ভাব্য জীবিতদের খুঁজে বের করতে সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার, ক্যামেরা এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, 'আমাদের অগ্রাধিকার হলো জীবন বাঁচানো এবং আহতদের অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।' ধসে পড়া কাঠামোর নিচে প্রাণের চিহ্ন শনাক্ত করতে সেনাবাহিনীর জিপিআর সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিস্টেম ধ্বংসস্তূপের স্তরের নিচে নড়াচড়া এবং স্পন্দন সঙ্কেত শনাক্ত করতে পারে, যা উদ্ধারকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে খননকার্য চালাতে সাহায্য করে।

Advertisement

 ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজার জন্য উদ্ধারকারী দলগুলো ক্যামেরাও বসিয়েছে, এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে যাদের ফোন সচল রয়েছে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে মোবাইল ফোন টাওয়ারের ডেটা ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৯ জন ব্যক্তি এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারি এবং আবদুল হামিদসহ অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত  হত্যার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক বলেন,'আমরা এই ধসের ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এর জন্য দায়ী হতে পারে এমন অন্যদের শনাক্ত করার জন্য আরও তদন্ত চলছে। আমরা গুদামের কাঠামোগত সুরক্ষা বিধি এবং কার্যপ্রণালীসহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।'  বেহেরা ব্রাদার্স তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে অবস্থিত ধসে পড়া গুদামটি ইজারা নিয়েছিল। তদন্তকারীরা ধসের কারণ এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কোনো ভূমিকা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন।

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবার প্রতি রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন তিনি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement