
হাতে মাত্র এক মাস। পুজো এসেই গেল। কুমোরটুলিতে এখন তাই চূড়ান্ত মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। জোরকদমে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। শেষ তুলির টান দিলেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে রওনা হবে প্রতিমা। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর কুমোরটুলিও যেন খানিকটা বদলে গিয়েছে। কেউ বলছেন, পুজো উদ্যোক্তরা থিমের তুলনায় সাবেকী প্রতিমার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারও মতে আবার মাটি-পাটের দাম বৃদ্ধিতে বায়নাও এসেছে দেরিতে, বেড়েছে মূর্তির দাম। ঠিক কতটা বদলেছে চিত্রটা? কুমোরটুলির ওলি-গলিতে ঢুঁ মারল bangla.aajtak.in.
প্রতিমায় ঠাসা কুমোরটুলির এক সরু গলিতেই মৃৎশিল্পী সুভাষ পালের স্টুডিও। এ বছর নয় নয় করেও কম প্রতিমা গড়েননি তিনি। কিন্তু তিনি জানালেন, বাংলাদেশ থেকে পাট না আসায় রাতারাতি বাড়াতে হয়েছে প্রতিমার দাম।
শিল্পী সুভাষ পাল বলেন, 'এ বছর প্রথমেই আমরা ধাক্কা খেয়েছি দড়িতে। ১০০ টাকা বেড়েছে কিলোতে। ১৫০ টাকার দড়ি ২৫০ দিয়ে কিনতে হয়েছে। ফলে প্রতিমার দাম তো বাড়াতেই হয়েছে। আমরা কোথা থেকে পাব এই বাড়তি ইনভেস্টমেন্টের টাকা?'
বাংলাদেশ থেকে যে পাট আসত, এবার তা আমদানি হয়নি। সুভাষ পাল বলেন, 'পাটের জোগান না থাকায় এখানকার পাট দিয়েই কাজ চালাতে হয়েছে। এখানকার নতুন পাটে দড়ির দাম হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। প্রতিমার চুল মূলত পাট দিয়েই তৈরি হয়। আর তাই ফেসো চুল, কাঠি চুল, ক্রেপ চুল, সবেরই দাম অনেকটা বেড়েছে। ক্রেপ বান্ডিল ৫০ থেকে ৮০ হয়েছে। যে চুলের দাম ৬০ টাকা ছিল সেগুলো ১০০ টাকা হয়েছে। কাঠি চুলের দাম ৪০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা, ৬০০ টাকার জায়গায় ১০০০ টাকা হয়েছে।'
ন্যূনতম প্রতিমার দাম ১০ হাজার থাকে, সেগুলি ৫ হাজারের বেশি দাম রাখতে হয়েছে কুমোরটুলির সুভাষ পালের মতো মৃৎশিল্পীদের।
উল্লেখ্য, প্রায় ২০০–র কাছাকাছি কুমোর পরিবারের ৬০০ স্টুডিওতে দিনভর কাজ চলে কুমোরটুলিতে। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেখানকার চিত্র অনেকটাই বদলেছে। তবে ব্যস্ততা রয়ে গিয়েছে একইরকম। ফলে পুজোর মাসখানেক আগে মাটি-পাটের সমস্যা কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতিমার কাজ শেষ করে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পাঠানোই মূল লক্ষ্য মৃৎশিল্পীদের।