Advertisement

Kunal Ghosh and Sandipan Saha: কুণাল ও সন্দীপনের দীর্ঘ কথা, আধ ঘণ্টা ধরে শুধুই 'বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়'?

তৃণমূলে ভাঙনের পর থেকে ঋতব্রতকে যেভাবে বার বার নিশানা করেছেন কুণাল, সন্দীপনকে কিন্তু একবারও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি কুণাল। 

কুণাল ঘোষ ও সন্দীপন সাহা - পিটিআই ফাইল ছবিকুণাল ঘোষ ও সন্দীপন সাহা - পিটিআই ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 28 Oct 2026,
  • अपडेटेड 9:28 AM IST
  • কুণাল ও সন্দীপনের দীর্ঘ আলাপচারিতা
  • নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক সংক্রান্ত লড়াই অব্যাহত
  • সন্দীপনের দাবি, বিজয়ার সৌজন্য সাক্ষাত্‍

একজন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। অপরজন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম মুখ। দুই নেতার দীর্ঘক্ষণ মিটিং ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু। কুণাল ঘোষ ও সন্দীপন সাহা। 

মঙ্গলবার বিধানসভার লবিতে কুণাল ঘোষ ও সন্দীপন সাহার মধ্যে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে কথা হল। বস্তুত, তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর থেকে বিদ্রোহী শিবিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই মূলত গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। 

কুণাল ও সন্দীপনের দীর্ঘ আলাপচারিতা

নভেম্বরের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গে পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা। কোন শিবিরের সঙ্গে কার জোট হবে, শেষ পর্যন্ত কোন নেতা কোন দলের টিকিট পাবেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই আবহে বিধানসভার লবিতে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা কুণাল ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের অন্যতম নেতা সন্দীপন সাহাকে। দু’জনেই অবশ্য এই সাক্ষাৎকে বিজয়ার সৌজন্য বিনিময় বলে দাবি করেছেন। কিন্তু পুরভোটের আগে তাঁদের এই দীর্ঘ কথোপকথন কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

মঙ্গলবার পুজোর ছুটির পর প্রথম খুলেছে বিধানসভা। বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বিধানসভায় এসেছিলেন দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও সন্দীপন সাহা। সেই সময় বিধানসভার লবিতে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে দুই শিবিরের সংঘাত এবং দলের প্রতীক নিয়ে টানাপড়েনের আবহে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক সংক্রান্ত লড়াই অব্যাহত

গত ছ’মাসে রাজ্য রাজনীতিতে একাধিক ঘটনার জেরে তৃণমূলের দুই শিবিরের দূরত্ব নিয়ে চর্চা বেড়েছে। একদিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, দুই পক্ষের মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক সংক্রান্ত লড়াইও অব্যাহত। সোমবারও মাঝরাস্তা থেকে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিল ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থীদের দাবি, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে অধিকাংশ বিধায়ক নেই। প্রতীক সংক্রান্ত হলফনামায় ওই শিবিরের বহু বিধায়ক স্বাক্ষর করেননি বলেও দাবি করেছে কালীঘাটপন্থী শিবির।

Advertisement

'রাজনীতির কথা হবে না?'

যদিও দুই নেতাই এই জল্পনা খারিজ করার চেষ্টা করেছেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, পুজোর ছুটির পর বিধানসভা খুলেছে এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ছিল বলেই তিনি সেখানে এসেছিলেন। অনেকের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সন্দীপন সাহাও ছিলেন। কুণালের কথায়, 'দু’জন বিধায়ক, পাশাপাশি কেন্দ্রের বিধায়ক, তাঁরা দেখা হলে রাজনীতির কথা হবে না?' একই সঙ্গে তিনি জানান, সন্দীপনের সঙ্গে তাঁর পুরনো পরিচয় রয়েছে। বিজয়ার পর দেখা হওয়ায় শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়।

সন্দীপনের দাবি, বিজয়ার সৌজন্য সাক্ষাত্‍

একই দাবি সন্দীপন সাহারও। তাঁর বক্তব্য, বেলেঘাটা তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের পাশেই। কুণাল ঘোষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। বিজয়ার পর বাঙালিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের যে দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে, সেই সৌজন্যই পালন করেছেন তাঁরা। সন্দীপনের বক্তব্য, 'আপনারা এর মধ্যে রাজনীতি দেখতে চাইলে দেখতে পারেন, কিন্তু রাজনৈতিক কোনও বিষয় নয়। পুরোটাই সৌজন্যমূলক।'

তাত্‍পর্যপূর্ণ বিষয় হল, তৃণমূলে ভাঙনের পর থেকে ঋতব্রতকে যেভাবে বার বার নিশানা করেছেন কুণাল, সন্দীপনকে কিন্তু একবারও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি কুণাল। 

Read more!
Advertisement
Advertisement