
ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে তিনি হিন্দুদের দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকী মাংসও কিনতে বলেছেন হিন্দুদের দোকান বেছেই। এড়িয়ে চলতে বলেছেন হালাল মাংস। আর কৌস্তভের সেই মন্তব্যেরই পাল্টা দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। 'করিমস'-এর বিরিয়ানি নিয়ে কৌস্তভের একটা পোস্টকে সামনে এনে আক্রমণ করেছেন তিনি।
কুণাল নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, 'মুসলিম দোকান থেকে বিরিয়ানি খাবেন না। এমন নির্দেশ চড়াসুরে দিয়েছে অধুনা তৎকাল বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। এসব অর্থহীন বিষাক্ত কথা আমরা উড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু সমস্যা হল কৌস্তভের পোস্ট আর কমেন্টেই নাকি তার ফতোয়ার বিরুদ্ধাচরণ পাওয়া যাচ্ছে। সকাল থেকে একাধিক সূত্রে এগুলো পেলাম। এখন এসব ঠিক না ভুল, সে তো কৌস্তভ বলতে পারবে। শপথ নিয়ে মুন্ডিতমস্তক হওয়ার বিপদ এমনিই ছিল, এখন যদি বিরিয়ানির দোকানের ফতোয়াও সেমসাইড গোল হয়, তাহলে আর টিকি-টুকুই বা থাকে কেন?'
আর কুণালের এই পোস্ট নিয়েই হইচই পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্টটি শেয়ার হতে থাকে ঝড়ের গতিতে। এমনকী লাইক ও শেয়ারও পায়। তবে পোস্টের কমেন্টে অনেকে কুণালের বিরোধিতাও করেছেন।
কেন এই পোস্ট?
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একবারেই ভাল নয়। পরপর হিন্দু নিধন চলছে সেখানে। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ার জন্য বিরাট অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। আর সেই পরিস্থিতিতেই শাহরুখ খান এবং কেকেআর-কে আক্রমণ করেন কৌস্তভ। তিনি দাবি করেন, কলকাতা নাইট রাইডার্সে কোনও বাংলাদেশি খেলোয়াড় খেলবে না। এমনকী আইপিএল-এর কোনও দলেই খেলতে দেওয়া হবে না। শাহরুখ খান যদি সিদ্ধান্ত না বদলান, তাহলে তাঁকেও কলকাতাতে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেন।
আর এই কথা বলতে গিয়েই তিনি হিন্দু দোকানের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'হিন্দুদের দোকান থেকেই বিরিয়ানি কিনতে হবে। মাংসও কেনা উচিত হিন্দুদের থেকে। আমাদের ধর্ম ছাড়া কারও সঙ্গেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক করা যাবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'হিন্দু ভাইয়ের দোকান ছাড়া কিনবা না বিরিয়ানি। কোনও হিন্দু ভাইয়ের মাংসের দোকান ছাড়া মাংস কিনবা না। আমরা হালাল মাংসও খাব না।'
আর কৌস্তভের এই বক্তব্যের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। তাঁকে পাল্টা দিতে থাকে তৃণমূলও। আর এমন পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ কৌস্তভেরই পুরনো পোস্ট সামনে এনে আক্রমণ শানালেন।