
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এ বার গুরুতর দাবি করলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হুমকি মামলার পুরনো ফাইল কি ফের খোলা হচ্ছে? কুণালের পোস্ট ঘিরে সেই জল্পনাই।
ঋতব্রতর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ?
২০১৭ সালে বালুরঘাটের এক তরুণী, নাম নম্রতা দত্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেই মামলায় সিজেএম কোর্টের বিচারক অভিযুক্ত ঋতব্রতকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দিয়েছিলেন। এরপর ওই বছরেই ৭ নভেম্বর নম্রতা ফের ঋতব্রত ও তাঁর তত্কালীন বান্ধবী, বর্তমানে স্ত্রী দুর্বা সেনের বিরুদ্ধে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। সেই বছরেই ঋতব্রতকে বহিষ্কার করেছিল সিপিএম। পরবর্তীকালে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তিনি আলাদা সংগঠন চালাচ্ছেন, যার নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।
ডিজিকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার: কুণাল ঘোষ
এহেন ঋতব্রত যখন থেকে বিদ্রোহী হয়ে আলাদা শিবির করেছেন, তখন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সেই পুরনো ধর্ষণ মামলা নিয়ে সরব হয়েছেন কুণাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল আজ অর্থাত্ বুধবার পোস্ট করেছেন, ওই মামলায় পুলিশ প্রধানকে লিখিত চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কুণালের দাবি, 'আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিলাম। ছবি ও তথ্য দিয়ে। তিনি রাজ্য সরকারকে পাঠান। আমি মুখ্যসচিবকে তার কপি দিয়ে লিখি পুলিশকে বলা হোক কেস ফাইল খুলতে এবং জানাতে। এরপর রাজ্য সরকার ডিজিকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলে চিঠি দিল। আমাকে কপি দেওয়া হয়েছে। আমি এবার ডিজিকে চিঠি দিচ্ছি। তদন্ত কোথায় আছে, কেন আটকে, মেয়েটি জীবিত না মৃত, গোটা তদন্তের খুঁটিনাটি রাজ্য জানাক। একবার সিপিএম থেকে তৃণমূলে এসে বাঁচা, একবার বিজেপির বকলস পরে বাঁচা, এটা সবাই বুঝে গেছে। ডিজিকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চিঠি তাৎপর্যপূর্ণ। আশা করি ডিজি ফাইলটি ঠিকঠাকভাবে খুলবেন।'
সাবিনা ইয়াসমিনের ইস্তফা
ঋতব্রতর বিরুদ্ধে যখন পুরনো মামলা খোলার তোড়জোড় চলছে, তখনই তাঁর শিবিরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যাকেই দায়ী করেছেন। তবে দল ছাড়ছেন না বলেও দাবি সাবিনার।