
বুধবার নবান্নে রয়েছে নয়া BJP সরকারের প্রশাসনিক বৈঠক। তার আগেই নবান্নে পৌঁছলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, অশোক দেব। এদিন দুপুরে নবান্ন সভাঘরে ঢুকতে দেখা গেল তাঁদের। একদিকে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রায় ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক স্বাক্ষর করে দিয়েছেন, তখন মমতার আস্থাভাজনদের একে একে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগদানের চিত্র অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার যখন ওয়াই চ্যানেলে ধর্না দিচ্ছিলেন, তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল কুণাল, নয়না, ফিরহাদকে। ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি বড় চমক। দলের একাধিক সমালোচনা করার পরও কুণাল ঘোষ দিদির পাশে থাকার কথা বলেছেন। মঙ্গলবারের ধর্নামঞ্চে তাঁর অসুস্থতার পর মমতা যেভাবে তাঁর চিকিৎসার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন, তাতে দলের চরম বিপদের সময়েও দিদির প্রতি কুণালের আস্থা অটুট থাকার বার্তা দেয়।
বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাংশ এদিন নজিরবিহীন ভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে না মেনে বিকল্প হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছেন। ৫৮ জনের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি ঋতব্রত এদিন স্পিকারের হাতে জমাও করেন। সেখানে ঠিক তার পরবর্তীতেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় কুণাল, নয়না, ফিরহাদের মতো মমতা ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
সাধারণত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের উপস্থিত থাকাই কাম্য। তবে গত ১৫ বছরে তৃণমূল জমানায় এই চিত্র দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার প্রশাসনিক সভায় কখনওই দেখা যায়নি বিরোধী দলের কোনও বিধায়ককেই। তাঁদের ডাকা হতো না বলেই অভিযোগ ছিল তৎকাীন বিরোধী দল BJP-র। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে প্রথম থেকেই কাকলী ঘোষ দস্তিদারের মতো বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের দেখা গিয়েছে। তবে একেবারে মমতার ছায়াসঙ্গী কুণাল, ববি, নয়নার উপস্থিতিতে, কিঞ্চিৎ ভ্রুঁ কুচকাচ্ছে অনেকেরই।
এদিনের বৈঠকে অবশ্য বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, অরূপ রায়, জাভেদ খানরাও যোগদান করেছেন।