
দলের উপর রাগ, অভিমান করার অধিকারের তালিকায় সবচেয়ে আগে তাঁর নাম আসবে। তৃণমূলের দলীয় কোন্দল যখন উপরতলার প্রথমসারির নেতা-নেত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই মন্তব্যই করলেন কুণাল ঘোষ। তবে বেলেঘাটার বিধায়কের বক্তব্য, 'বিনা দোষে আমার থেকে বেশি যন্ত্রণা কেউ পায়নি এই দলে। তারপরেও আমি সহকর্মীদের অনুরোধ করছি, দল এবং বাংলার এই কঠিন সময়ে মমতাদির নেতৃত্বে তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড় করানো জরুরি।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর একটি পুরনো সময়ের ছবি পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। বুধবার তাঁর এই এক্স পোস্টে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। কুণালের প্রশ্ন, 'দল ক্ষমতায় এলে যাঁরা মন্ত্রিত্বের জন্য দিদির কাছে, অভিষেকের কাছে লবি করতেন, তাঁরাও অন্য সুরে কথা বলছেন। দল যদি এত খারাপ, প্রার্থী হলেন কেন?'
তবে দলের বিরুদ্ধে যাঁরা ক্ষোভ, রাগ উগরে দিচ্ছেন, তাঁরা যে সবটাই ভুল বলছেন, তা মনে করছেন না কুণালও। তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত তো ছিলই, কিন্তু আমাদের ভুলও অবশ্যই ছিল। সেগুলো পর্যালোচনা দরকার।'
দলের ভুল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনিও 'শাস্তি' পেয়েছেন, সে কথা স্বীকার করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার সাসপেন্ড হয়েছি, সেন্সরড হয়েছি। তখন কিন্তু আজকের বিপ্লবীরা কেউ প্রতিবাদ করেননি, পাশে ছিল শুধু ব্রাত্য।' তাঁর সংযোজন, 'দলে একশ্রেণির স্তাবক, সুবিধাবাদী, ফেরেব্বাজ, অন্য স্রোত থেকে ধান্দায় ভেসে আসা লোকজন, একটা বিচিত্র শ্রেণী গুরুত্ব পেয়েছে। নেতার ফ্যান ক্লাব, সচিবের ফ্যান ক্লাব, ফ্যানের ফ্যান ক্লাব কালচার তৈরি হয়েছিল।' তবে দল ক্ষমতায় থাকলে আমরা আছি, ক্ষমতায় না থাকলেই এত লোকের একসঙ্গে শ্বাসকষ্ট, এটা ভারি দৃষ্টিকটূ বলেই মনে করছেন বিধায়ক।
বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, 'এক মাসও হয়নি, এত কষ্ট? এই দলই তো সম্মান, পদ, জনপ্রতিনিধিত্ব, ইত্যাদি দিয়েছে। কেউ কেউ তার অপব্যবহারও করেছেন, মানতে হবে। আজ এক মাস হল না ভোটের, এখনই এত কথা?' দলের যাবতীয় ভুলত্রুটি, দলের মধ্যে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করে দলটাকে পুনর্গঠনের চেষ্টার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর যদি সমাধান না মেলে? কুণাল বলেন, 'নেতৃত্ব যদি ভুল সংশোধনের পথে না যান বা স্পষ্ট করে সমস্যা বলার পরেও তার সমাধান না করা হয়, তখন বিকল্প ভাবনা ভাববেন। দলের ভেতর থেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হোক। সর্বাত্মক চেষ্টা হোক। তাতে কাজ না হলে যে যা ভাবছে, পথ খোলা।'
সবশেষে কুণাল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, 'মমতাদির নেতৃত্বে একজন সৈনিক হিসেবে আছি। যেটা উচিত মনে করব, বলব। দলকে কর্মীদের পাশে, মানুষের পাশে রাখার চেষ্টা করব। যদি দেখি দল ভুলের পথেই আছে, তখন দেখা যাবে। তার আগে পর্যন্ত দলকে মজবুত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।' নিজেকে 'আলেকজান্ডার' নয় 'পুরু' হিসেবে দেখছেন কুণাল।