
'স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লির দরবারে। লোকসভায় স্ত্রীকে BJP প্রার্থী করতে হবে।' তীব্র কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যদিও তিনি পোস্টের শেষে 'সব চরিত্র কাল্পনিক' লিখেছেন, তবুও এই পোস্ট যে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে লেখা, তা সহজেই অনুমেয়।
বেইমানিক সব সীমা পার করে গিয়েছেন তিনি, নাম না করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্ক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল। ঠিক কী লিখেছেন তিনি?কী নিয়ে তাঁর অভিযোগ?
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, 'বেইমানির সব সীমা পার করে যাচ্ছেন কিছু নরকের কীট। স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লির দরবারে। পরের লোকসভায় স্ত্রীকে BJP প্রার্থী করতে হবে। এখন এখানে ওঁর অনুগামীদের পুরভোটে টিকিট দিতে হবে।'
প্রসঙ্গত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন। স্বামী NCPI-তে যোগ দিলেও তিনি দিদির হাত ছাড়বেন না তা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক কালে তাঁর রাজনৈতিক গতিবিধি নিয়ে খানিক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
নয়না ইতিমধ্যেই নাকি একাধিক বার প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন। সঙ্গে তাঁর স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন। এ কথা খোদ সাংসদ স্বামীই জানিয়েছেন।
সুদীপের কথায়, 'আমার স্ত্রী নয়নার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি দুর্বলতা আছে। সে সেই দলেই আছে। সৌগত রায় ও তথাগত রায় তো একই বাড়িতে থাকেন পাশাপাশি। নয়নার কাজের পরিধিটা সম্পূর্ণ ভাবেই চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রিক। এ বারও যখন আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম, অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলছিলাম, একবার নয়, একাধিকবার নয়না আমার সঙ্গে ছিল। ওকে অমিত শাহ একবার প্রশ্ন করেছিল, এ বারে বিধানসভায় জিততে কেমন কষ্ট হয়েছে? তাতে নয়না অমিত শাহকে বলেন, আপনি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন, তাতে তো নিশ্চয়ই কিছুটা কষ্ট হয়েছে।' নয়না সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে মমতা শিবিরে আরও একটি ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে।
এবার কুণাল ঘোষের পোস্টেও সে বিষয়টা বেশ স্পষ্ট। তিনি লেখেন, 'লক্ষ্মীপুজোয় মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়িতে আমন্ত্রণ। নির্লজ্জ বেহায়া গদ্দার লোভী সুবিধাবাদী চক্রান্তকারী।'