
ফের আইনি জট! নিয়োগকাণ্ডে প্রতিমুহূর্তে হোঁচট খেতে হচ্ছে এসএসসি-কে (West Bengal SSC recruitment Scam)। উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High court)। দু’দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justic Biswajit Basu)। আজ, মঙ্গলবার হাইকোর্টের নির্দেশ, এসএসসি (Ssc) কোনও চাকরিপ্রার্থীকে সুপারিশপত্র দিতে পারবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক (Praimary Teachers recruitment) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। পরে ২০১৭ সালের জুনে শুধু কর্মশিক্ষা পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ইন্টারভিউ (পার্সোনালিটি টেস্ট) হয়।
স্কুলে কর্মশিক্ষার জন্য তৈরি করা অতিরিক্ত পদ বা ‘সুপারনিউমেরারি’ পদ নিয়ে সোমবারই আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল কমিশনকে (West Bengal SSC recruitment scam) । মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে কমিশনকে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হলে নিয়োগ তালিকা বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিচারপতি। সেইমতো এদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল না করলেও স্থগিত করে দিলেন তিনি।
সোমবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু মন্তব্য করেন, ‘খুব সন্দেহজনক তালিকা। প্রয়োজনে স্থগিতাদেশ দেব। উড়িয়ে দেব তালিকা’। আদালতের আশঙ্কা ওয়েটিং লিস্টে কোনও কারচুপি হয়ে থাকতে পারে। সোমা রায় নামে এক চাকরি প্রার্থী এই মামলা করেন। রাজ্য সরকার কর্মশিক্ষা শারীরশিক্ষায় নিয়োগের ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত পদ তৈরি করেছে তারই ওয়েটিং লিস্ট এবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের অক্টোবরে শারীর শিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিষয়ে অতিরিক্ত পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এসএসসি। কিন্তু তারপরই একটি মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলা করেছিলেন সোমা রায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ৩ নভেম্বর কর্মশিক্ষা বিষয়ে যে ‘ওয়েটিং লিস্ট’ প্রকাশ করে এসএসসি, তাতে তাঁর নাম নেই। তিনি তফশিলি (sc)। পরীক্ষা এবং ইন্টারভিড মিলিয়ে ৭২ নম্বর পেয়েছেন। কিন্তু ‘অ্যাকাডেমিক স্কোরে’ ২২-এর পরিবর্তে ১৮ নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সোমা।
পাশাপাশি আদালতে সোমা দাবি করেন, তিনি লিখিত পরীক্ষায় ৫৪ নম্বর পেয়েছেন। অ্যাকাডেমিক স্কোরে ২২ পাওয়ার পর তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৭৬ হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁকে দেওয়া হয়েছে ৭২ নম্বর। তিনি দাবি করেন তাঁকে মোট নম্বরে ইন্টারভিউয়ের নম্বর যোগ করা হয়নি।
সোমার আইনজীবী ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikashranjan bhattachriya) এবং ফিরদৌস শামিম। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ওই তালিকায় এমন ৬০ জন চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর সোমার থেকে কম।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ওই ৬০ জনকে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে চান। এদিকে এসএসসি-র আইনজীবীর যুক্তি, ওই ৬০ জনের অনেকেই ‘প্যারা টিচার’। বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে তাঁদের সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর যুক্তিতে চিঁড়ে ভেজেনি আদালতের। বিচারপতি বসু নিয়োগে স্থগিতাদেশের পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।