
ইরানের উপর হামলা করেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ হরমুজ। যার প্রভাব পড়েছে LPG সাপ্লাইতে। সময়ে মিলছে না LPG বা রান্নার গ্যাস। সেই কারণে ধুঁকতে শুরু করে কলকাতা শহরের নামজাদা সব হাসপাতালের হেঁশেলও। যতদূর খবর, গ্যাসের ঘাটতির জন্য শহরের একাধিক হাসপাতালে রোগীদের খাবার দিতে গিয়ে বিকল্প রাস্তা বেছে নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। কিছু ক্ষেত্রে মেনুতেও বদল আনা হচ্ছে।
মাথায় রাখতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার LPG নিয়ে আশ্বস্ত করছে ঠিকই, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শোধরায়নি বলে দাবি বিরোধীদের। তাদের অভিযোগ, LPG সঙ্কট এখনও রয়েছে। যার ফলে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে। কলকাতায় গ্যাস সাপ্লাইতে সমস্যাও দেখা দিয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই বিপদ বেড়েছে হাসপাতালগুলির।
শহরের সুপারস্পেশালিটি ডিসান হাসপাতালের গ্যাসের সীমিত সরবরাহ সামলাতে আপাতত মেনুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত জানান, রোগীদের খাবারের পরিষেবা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। সেই মতো রান্নাঘরকে দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'গ্যাস সরবরাহের সঙ্কটের জন্য হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতেও প্রভাব পড়ছে। তাই আপাতত মেনু সীমিত কম করে নিরামিষ ও ডিমের পদ রাখা হয়েছে। কারণ, আমিষ খাবার রান্না করতে সাধারণত বেশি গ্যাস ও বেশি সময় লাগে।'
তিনি আরও জানান, বিকল্প হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্ডাকশন কুকিং সিস্টেম ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। কিন্তু এখন বাজারে এসব যন্ত্র সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি দামও বেড়েছে।
যদিও শুধু বেসরকারি হাসপাতালগুলিরই এমন অবস্থা নয়। শহরের প্রথমসারির সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম বা পিজি-এর অবস্থাও খারাপ। এই হাসপাতালের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার রোগীর জন্য খাবার রান্না হয়। সেই সব খাবার পৌঁছে যায় রোগীদের কাছে। কিন্তু সেখানেই বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের ঘাটতির খবর মিলেছে।
কিছু ক্ষেত্রে রান্নার কাজ চালিয়ে যেতে কর্মীরা গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত। ঘন ঘন সিলিন্ডার বুকিংও করা যাচ্ছে না। যার ফলে স্বাভাবিক রান্নার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্রের খবর, এমন অবস্থা শহরের অধিকাংশ হাসপাতালেরই। এমনকী জেলার হালও এক। তাই হাসপাতালের ক্যান্টিনে ইন্ডাকশন কুকটপসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে রান্নার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যন্ত্রেরও জোগানও তেমন একটা নেই। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডের সমস্যাও রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে যে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চলছে। এই পরিস্থিতি গোটা দেশেই LPG সঙ্কট রয়েছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গৃহস্থালি ব্যবহার এবং হাসপাতাল-স্কুলের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে LPG সরবরাহকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে।
চুপ করে বসে নেই রাজ্য সরকারও। তাদের পক্ষ থেকেও এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সময় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ জরুরি পরিষেবাগুলিতে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় থাকে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকছে কই! এখন দেখার কতদিন লাগে সব কিছু আগের মতোই ছন্দে ফিরতে।