
বুধবার বিধানসভায় মধ্যাহ্নভোজে মাছ-ভাত খাইয়েছে বিজেপি সরকার। এবার ৫ টাকায় মাছ-ভাত খাওয়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শোনা যাচ্ছে ‘মা ক্যান্টিনে’ এবার মিলতে চলেছে মাছ-ভাত। সূত্রের দাবি, নতুন বিজেপি সরকার ‘মা ক্যান্টিনে’র মেনুতে ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এক প্রবীণ বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘ডিম নয়, আমরা মাছে–ভাতে বাঙালি। তবে নাম বদল করা হতে পারে মা ক্যান্টিনের।'
প্রসঙ্গত এবারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে চর্চায় ছিল মাছ-রাজনীতি। তৃণমূলনেত্রী ভোট প্রচারে গিয়ে বারবার বলেছেন, বিজেপি জয়ী হলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর সরাসরি কোপ পড়বে। তৃণমূলের এই প্রচার রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছিল বিজেপি-ও। মাছ নিয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছিল বিজেপি প্রার্থী ও নেতাদের। নির্বাচনে জয়লাভের পর নতুন সরকার গঠিত হতেই খাস কলকাতার বুকে মাছ উৎসব করে বিজেপি। বুধবার বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠানেও ছিল মাছ-ভাতের আয়োজন। ক্ষমতায় এসে গেরুয়া শিবির যেন বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছে বাঙালির প্রিয় মাছ বিজেপি কেড়ে নেবে না। এবার সেই মাছ-ভাত ৫ টাকায় আমজনতার পাতে দিতেও পরিকল্পনা করেছে বিজেপি শিবির।
রাজ্যে পালাবদলের জেরে এবার কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে বন্ধ হয়ে যাবে কয়েকশো মা ক্যান্টিন, এমন খবর শোনা যাচ্ছিল। মা ক্যান্টিন থেকে থেকে পাঁচ টাকায় খাওয়াদাওয়া করেন গরিব মানুষেরা। ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার জেরে তাই ফুটপাতবাসী, গৃহহীনরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যদিও নতুন সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, পুরোনো কোনও জলকল্যাণমুখী প্রকল্প তারা বন্ধ করবে না। এই আবহে কিছুটা ভোল বদলাতে পারে ‘মা ক্যান্টিনের’।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে কার্যত লকডাউন ছিল রাজ্য জুড়ে। অর্থনীতির বেহাল দশা তখন ছাপ ফেলেছে দেশ তথা রাজ্যের মানুষের উপরেও। করোনা ভাইরাস প্রচুর মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি কেড়েছিল অনেক মানুষের পেটের ভাত। এই সময় ‘মা’ ক্যান্টিন অন্ন তুলে দিয়েছিল বহু মানুষের মুখে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চালু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে দুর্গাপুজো কমিটি এলাকায় শ্রমিকদের জন্য পাঁচ টাকায় দুপুরের ভাত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিল। ‘মা ক্যান্টিনে’ দুপুরে মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল ও ডিমের তরকারি বা ডিমসেদ্ধ দেওয়া হয়। প্রথমে মাত্র ৩২টি ক্যান্টিন নিয়ে চালু হয়েছিল ওই প্রকল্প। পরে ধাপে ধাপে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৯। মূলত গরিব মানুষ যাতে নামমাত্র খরচে দুপুরের খাবার পান, তার জন্যই এই ক্যান্টিন চালু করা হয়। তবে লকডাউনের মতো কঠিন সময়ে বিখ্যাত হওয়া ‘মা’ ক্যান্টিনের কনসেপ্ট কিন্তু নতুন নয়। খুব কম পয়সায় রাজ্যবাসীর মুখে পেট ভরে খাবার তুলে দেওয়ার দিশা দেখিয়েছিল তামিলনাড়ু। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার উদ্যোগে চালু হয়েছিল আম্মা ক্যান্টিন। যেখান থেকে রাজ্যবাসীর মুখে নামমাত্র টাকায় খাবার তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল জয়ললিতা সরকার। সেই থেকেই বাংলাতেও শুরু হয়েছিল 'মা ক্যান্টিন'।
সূত্রের খবর, বিজেপি সরকার ‘মা ক্যান্টিনে’র মেনুতে ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। দামের পরিবর্তন না করে আপাতত ৫ টাকাই রাখার চিন্তাভাবনা চলছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি কৃষি বিপণন দফতরকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সাধারণ ভাবে এই ক্যান্টিনগুলি স্বনির্ভর গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হলেও ‘সুফল বাংলা’ থেকে প্রয়োজন মতো সস্তায় সবজি এবং রাজ্য সরকারের তরফে বিনামূল্যে চাল সরবরাহ করা হয় ক্যান্টিনে। ভোটের রেজ়াল্টের পরে কিছু কিছু জায়গায় ‘মা ক্যান্টিন’ সাময়িক ভাবে বন্ধ হলেও জয়ী বিজেপি প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছেন, ফের সেগুলি চালু করা হবে। সূত্রের দাবি, সরকার গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এদিকে খাদ্য প্রকল্প নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পে এখন ডিম-ভাতের পাশাপাশি মাছ-ভাত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান দিলীপ। একই সঙ্গে ৫ টাকায় খাবারের সুবিধা বজায় রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।