
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞাপনে ১১ হাতের দুর্গা ঠাকুরের ছবি ঘিরে জোর বিতর্ক। পূরাণ মতে, দুর্গা ঠাকুরের ১০টি হাত। এই ১০ হাতে থাকে ১০টি অস্ত্র। দশভূজা দুর্গাই পূজিত হয় সর্বত্র। তবে সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদপত্র সহ অন্যত্র যে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে ১০ নয় দুর্গার ১১টি হাত দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে বিরোধীরা তীব্র কটাক্ষ করেছেন। জবাব দিলেন রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এদিন বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকের একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারে এই দুর্গা ঠাকুরের ছবি প্রকাশ করে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। যা খোদ শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রয়েছে। মিলন মেলা গ্রাউন্ডে এই দুর্গাপুজোর বৈঠক বসবে। যেখানে পুডোর অনুদান, পুজোর পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে খবর।
দুর্গা ঠাকুরের একটি অতিরিক্ত হাত এবং সেই হাতে অস্ত্র দেখএ প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (মমতাপন্থী)। পূরাণের সঙ্গে এই দুর্গার রূপের মিল নেই বলে সরব তারা। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ একটি কটাক্ষসুলভ এক্স পোস্ট করে লেখেন, 'কোনও থিমপুজো চলবে না। তেমনই পূরাণের কোনও বিকৃতিও চলবে। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করা নিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারির বন্যা বয়ে গিয়েছে। অথচ মা দুর্গার ১১টি হাত হয়ে গেল, তা-ও আবার সরকারি বিজ্ঞাপনে? কার নির্দেশে দশভূজাকে একদাশভূজা করে ফেলা হল?'
CPIM নেতা শতরূপ ঘোষও শ্লেষাত্মক পোস্ট করেন। তিনি ওই বিজ্ঞাপনের দুর্গা ঠাকুরটির ছবি পোস্ট করে লেখেন, 'দুর্দান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন। এখানে মা দুর্গার ১১টি হাত। অসুরকে বধ করার জন্য তো দেবীকে ১০টি অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। BJP সরকার আরও একটি অস্ত্রদান করেছে।'
এই বিতর্ক নিয়ে জবাব দিয়েছেন রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'মা দুর্গা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।' যদিও পরে তিনি বলেন, 'আমি বিজ্ঞাপনটি দেখিনি। হতে পারে যে এজেন্সি এটি তৈরি করেছে তাদের তরফে ভুলভ্রান্তি হয়েছে। এটি কোনও রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে না। ভুল শুধরে নেওয়া হবে।'