
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল থেকে বুধবার পদত্যাগ করেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে আচমকাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক। আর শিবির বদলের পরই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্রের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও শোনেন না। তাঁর দাবি, অভিষেক এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে তাঁর কথাই শেষ কথা বলে ধরে নেওয়া হত। মদনের কথায়, অভিষেকের নেতৃত্বের ধরন দলের ভিতরে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কেবল মদন মিত্র নয়, এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের একাধিক বিধায়ক অভিষেককে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এমনকী NCPI দলে যোগ দেওয়া তৃণমূলের সাংসদদেরও অভিষেককে নিয়ে অভিযোগ ছিল। বুধবার ফেসবুক লাইভ এসে এই নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক সাংসদ-বিধায়কের দল ছাড়া নিয়ে মমতার বক্তব্য, 'অভিষেক বাহানা হয়ে গেছে।'
লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'অভিষেক বাহানা হয়ে গেছে। দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে ওর বউ সিবিআই অফিসে হাজিরা দিয়েছে। একটু সেটিং করে নিলে পারত।' নিজের সম্পর্কেও মমতা বলেন, 'আমি নিজে সেটিং করে নিলে এই অত্যাচার হত না। মূল্যবোধ বেঁচে খাই না।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'রাজ্যসভার ১০ জন সাংসদ ও লোকসভার ৮ জন সাংসদ এখনও আমার সঙ্গে আছে।' মদন মিত্রের পদত্যাগের বিষয়ে নাম না করে মমতা বলেন, 'কালকেই মেসেজ করেছিল, আমার পরিবারকে শমন পাঠিয়েছে, কালকেই সরিয়ে দিয়েছিলাম।' সেইসঙ্গে নেত্রীর বক্তব্য, একজন চলে গেল বলে অন্যদের অবিশ্বাস করবেন না। চলে যাবে ঠিক করেছিল ১৫ দিন আগেই। কলকাতা হাইকোর্ট বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান মমতা। জানিয়ে দেন বিকেল তিনটে পর্যন্ত সেখানেই সমাবেশ করবেন তিনি। প্রয়োজনে মাইক ছাড়াই, খালি গলায় মিটিং করবেন তিনি।