
২১ জুলাইয়ের ফাইল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২১ জুলাই কমিশন গড়েছিল বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। সেই রিপোর্ট ধরে ধরে একের পর এক তথ্য ফাঁস করলেন বিধানসভায়। ঘোষণা করলেন, আহত বা নিহতদের পরিবার যদি নতুন করে অভিযুক্তদের তালিকায় থাকা কারও বিরুদ্ধে FIR করতে চায়, তবে সরকার পদক্ষেপ করবে। একইসঙ্গে পুনরায় আর্থিক সাহায্যের দাবি করলেও তা খতিয়ে দেখা হবে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই বিধাসভায় উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তৃণমূল (ঋতব্রতপন্থী) বিধায়ক মদন মিত্র।
সোমবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে দাঁড়িয়েই প্রথমে মদন বলেন, 'সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী, আপনার দলের সতীর্থ ও আমার বন্ধুরা আমায় বলতে দিচ্ছিলেন না। কারণ আমার গায়ের জামা দেখে আমায় কালো তৃণমূল মনে হচ্ছিল তাঁদের। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই আমি কালো তৃণমূল নই।'
এরপরই শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, 'আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিধানসভা চির কৃতজ্ঞ থাকবে। কারণ আপনি একটা কবরস্থ ডেড বডিকে মাটির তলা থেকে খুঁড়ে নিয়ে এসে আবার বের করেছেন। যার গন্ধে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ভরে হয়ে যাবে। কেন চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট বেরোয়নি, এর জবাব শুধু আপনি নয়, পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মানুষ জানতে চায়। আপনি হোয়াইট পেপার বের করুন। যদি সরকারের পক্ষ থেকে একটা বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, কার কার কাছে তথ্য রয়েছে তা জনগণ এসে জানাক। সই অনুযায়ী পদক্ষেপ করুন। আমিও সাক্ষ্য দিয়েছিলাম, জানতে পারলাম না আমার বিচার কী হল।'
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেস 'ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট নয়' দাবিতে কলকাতায় এক সমাবেশ করেছিল। অভিযোগ, সেই আন্দোলনের সময়ই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সময় গুলি চালায় পুলিশ। তাতে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর নিয়ম করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য় ২১ জুলাই কর্মসূচি করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী অবস্থায় থাকাকালীন তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার হবে। তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেবেন।
২০১১ সালে বাংলার কুর্সি দখল করেন মমতা। পতন হয় ৩৪ বছরের বাম সরকারের। এরপরই ২১ জুলাইয়ের জন্য ওই কমিশন গড়া হয়। কিন্তু সেই কমিশন যে কী রিপোর্ট দেয়, কাদের দোষী সাব্যস্ত করে, এই বিষয়গুলি বিগত ১৫ বছরে সামনে আসেনি। রাজ্য পালাবদলের পর এবার সই ফাল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।