
বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কৃষ্ণনগরের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সেই নির্দেশকেই হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন তিনি।
মহুয়া মৈত্র PTI-কে জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ২২৮ ধারার অধীনে তাঁর করা অব্যাহতির আবেদনের নিষ্পত্তি না করেই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই ধারায় কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার আবেদন করতে পারেন।
বুধবার কৃষ্ণনগরের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত উল্লেখ করে, বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজির হননি। আগামী ২৮ অগাস্টের মধ্যে ওই পরোয়ানা কার্যকর করার রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যাচ্ছে অভিযুক্তের মনোভাব। তাই এই পরিস্থিতিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই।
কেন প্রথম দুই তারিখে হাজির হননি মহুয়া?
মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, আদালতের সমনে তাঁকে প্রথম দু’টি হাজিরার তারিখ দেওয়া হয়েছিল ৪ অগাস্ট এবং ১২ অগাস্ট। কিন্তু ওই দুই দিনই তাঁর পক্ষে আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, ওই দুই দিনই তিনি সংসদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছিলেন। পাশাপাশি যে আদালতে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছিল, সেটি সেই সময় কৃষ্ণনগর বার অ্যাসোসিয়েশনের ‘বয়কট’ চলছিল। ফলে সেখানে কোনও বিচার সংক্রান্ত কাজই হচ্ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
মহুয়া বলেন, '৪ এবং ১২ অগাস্ট আদালত থেকে আমাকে যে সমন পাঠানো হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল আমি নিজে অথবা আমার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হতে পারি। ওই দু’দিনই আমি সংসদে উপস্থিত ছিলাম। আর বার বয়কট চলায় আমার আইনজীবীও আদালতে হাজির হতে পারেননি।'
১৮ অগস্টের সমন নিয়ে কী দাবি মহুয়ার?
মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, তৃতীয় সমনে তাঁকে ১৮ অগাস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, এর আগের দিনই অর্থাৎ ১৭ অগাস্ট আইনজীবীরা আদালত বয়কট প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু ১৮ অগাস্ট তিনি দিল্লিতেই ছিলেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে হাজির হয়ে BNSS-এর ২২৮ ধারায় অব্যাহতির আবেদন জানান।
মহুয়ার দাবি, ওই আবেদনটি বিবেচনা করার পরিবর্তে আদালত তাঁকে পরের দিন অর্থাৎ ১৯ অগাস্ট সকালে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। তাঁর সংযোজন,'পরের দিন এত কম সময়ের মধ্যে দিল্লি থেকে কৃষ্ণনগরে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে আমার আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, অব্যাহতির আবেদনটি আগে নিষ্পত্তি করা হোক। কারণ ম্যাজিস্ট্রেট যদি আবেদন খারিজ করেন, তাহলে আমি হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ পেতাম। কিন্তু বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।'